TheBangladeshTime

অলিম্পিকে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করতে চায় ডোপিং বিরোধী সংস্থা

2026-03-14 - 15:04

২০২৮ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেই অলিম্পিকে আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েও যেতে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুনে অবাক হলেও এমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নতুন এক পরিকল্পনা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে সত্যিই ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের কোনো আয়োজনে থাকতে পারবেন না ট্রাম্প। যেকোনো খেলাকেই মাদকমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। সেই লক্ষ্যেই ওয়াডা অলিম্পিককে মাদক ও কৃত্রিম শক্তিবর্ধক উপাদানমুক্ত রাখতে প্রস্তাব করেছে নতুন এক নিয়মের। আর সেটি বাস্তবায়িত হলে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ। আর এই নিয়মটি প্রভাবিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপকেও। ওয়াডার কার্যক্রমের সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন ধরেই। সংস্থাটির কার্যকারিত নিয়ে বিতর্কের জেরে গেল কয়েক বছর তাদের কোনো বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। নিয়মটি চালু করে গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। সেটি বহাল রাখেন ট্রাম্পও। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দুই দলের সরকারি কর্মকর্তারাই ওয়াডার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিরোধী চীনকে কেন্দ্রকে করে পুরোনো বিরোধের কারণে। বার্তাসংস্থা এপির খবর অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার হতে যাওয়া ওয়াডার সভার আলোচনাসূচিতে জায়গা পেয়েছে যেসব দেশ বকেয়া পরিশোধ করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব। যার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিনিধিদের নিষিদ্ধ করা। গেল দুই বছরে ওয়াডার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ৭৩ লাখ ডলারের বেশি। ২০২১ সালে নিষিদ্ধা ড্রাগের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পরও ২৩ জন চীনা সাঁতারুকে কোনো শাস্তি না দিয়ে বিষয়টি গোপন করার অভিযোগ ওঠে ওয়াডার বিরুদ্ধে। উক্ত ঘটনায় ওয়াডার কাজের স্বচ্ছতা এবং চীনের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। যার জেরে দেশটির সরকার ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ওয়াডার সদস্যপদ ফি আটকে দেয়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যেই আইনের কারণে ওয়াডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায় স্থায়ীভাবে। মার্কিন সরকার জানায়, অভিজ্ঞ ও স্বতন্ত্র নিরীক্ষকদের মাধ্যমে ওয়াডার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো অর্থ দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এবং বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) সতর্ক করে দেয়, প্রয়োজনে ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই চাপের মুখে ইউটা কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ ‘বাতিলকরণ শর্তে’ স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। চুক্তির সেই শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডোপিংবিরোধী নীতিমালা বা ওয়াডার কর্তৃত্ব অমান্য করে, তাহলে আইওসি চাইলে গেমস অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারবে। এদিকে ডোপিংবিরোধী সংস্থাটি আরও কঠোর পদক্ষেপের কথাও ভাবছে। সদস্যপদ ফি পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তবে ওয়াডার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাহুল গুপ্ত মনে করেন, এমন পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। ওয়াডা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, মাত্র পাঁচ কোটি ডলারের বাজেটের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি ফাউন্ডেশন কীভাবে এমন নিয়ম বাস্তবায়ন করবে, যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দিতে পারে? তার প্রশ্ন, এটি কার্যকর করার উপায়ই বা কী—ইন্টারপোলের মাধ্যমে কি রেড নোটিশ জারি করা হবে? তার মতে, এমন ধারণা বেশ হাস্যকর এবং মনে হয় বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গভীরভাবে ভাবা হয়নি। আইএন

Share this post: