শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা
2026-03-08 - 02:34
ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তবে দেশের বাজারে এখনও খুব একটা প্রভাব না পড়লেও অনেকে আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি তেল কিনছেন। অনেক মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে প্যানিক বায়িংয়ের প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। প্যানিক বায়িং হলো আতঙ্কিত হয়ে পণ্য কেনা বিশেষ করে দুর্যোগ, যুদ্ধ বা ঘাটতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত পণ্য সংগ্রহের প্রবণতা। পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পর সেটি বোতলে সংরক্ষণ করে আবারও পাম্পে গিয়ে তেল কিনছেন অনেকে। এতে বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় বেড়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিনে ও রাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন আর আরোহীদের জটলা দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চালকদের অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেল নিতে পারছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েকজস মোটরসাইকেল চালক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তেল পাওয়া কঠিন হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তেল কেনার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল বোতলে সংরক্ষণ করছেন। এতে পাম্পে বারবার ভিড় বাড়ছে। পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা এবং প্যানিক বায়িংয়ের কারণে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। ঢাকার পরিবাগে তেল কিনতে আসা এক রাইড শেয়ারিং চালক মামুন বলেন, আমার আয়ের একমাত্র মাধ্যম রাইড শেয়ার করা৷ পাম্পে দিনের বেলা অনেক ভিড় থাকে তাই রাতে এসেছি। একবার ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না এজন্য তেল কেনার পর বোতলে রেখে আবার পাম্পের সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। তেল না পেলে বাইক চালিয়ে উপার্জন করতে পারবো না। এজন্যই এই কাজ করছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তেল সংগ্রহের এমন প্রবণতা দেখা গেছে৷ কুষ্টিয়ায় বসবাস করা মারুফ মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, যদিও ঈদের এখনও দেরী আছে। সেসময় যদি তেল না পাই তাই আগেভাগেই ৫ লিটার করে ২ বোতলে সংগ্রহ করে রেখেছি। আপাতত আর চিন্তা করছি না। তেল সংকট হলেও আমার সমস্যা হবে না। রাজধানীতেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। রাতে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহের পর কিছুটা দূরত্বে যেয়ে সেই তেল বোতলে সংগ্রহ করে ফের পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করছেন অনেকে। এতে যাদের বাইকের তেল শেষের দিকে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিজাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার বাইকের তেল শেষের দিকে৷ আর সর্বোচ্চ ৫-৭ কিলো. চালাতে পারবো৷ পাম্পে যারা তেল নিতে এসেছেন দেখা যাবে অনেকেরই তেল কেনার প্রয়োজন নেই৷ তারপরও হুজুগে আতঙ্কিত হয়ে তারা তেল কিনছেন৷ এতে ভিড় বাড়ছে। আমরা ভোগান্তিতে পড়ছি। গত শুক্রবার যানবাহনে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি ট্রিপে (একবার) মোটরসাইকেল ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/ মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার,দূরপাল্লার বাস/ ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/ কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নিতে পারবে। আর শনিবার বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টকু বলেছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুইটি তেলবাহী ভেসেল (জাহাজ) আসছে। ফলে তেলের সংকট তৈরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, আমরা রেশনিং করেছি মূলত অনিশ্চয়তার কারণে। কিন্তু মানুষ এই রেশনিং দেখে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই। আগামী ৯ তারিখে আরও দুইটা ভেসেল আসছে। সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই। মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা জনগণকে এই বার্তাটা দিন যে তাড়াহুড়ো করে তেল কেনার কোনো দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুত আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারা রাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই। এসময় তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। এনএস/এসএনআর