মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
2026-03-27 - 04:40
বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল দিন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দৃপ্ত শপথে বাঙালি জাতি ঘোষণা করেছিল এই দেশ আমাদের। অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগে রঞ্জিত হয়ে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। দেশে-বিদেশে আজ কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে জাতির সেই বীর সন্তানদের। গভীর শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। বাণী পাঠ করেন হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজার কমোডর মো. হাসান তারিক মণ্ডল, কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও দূতালয় প্রধান প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য, কাউন্সেলর (লেবার) সাইয়েদ শরিফুল ইসলাম এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. তানজিম হুসাইন। অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা ও বিশিষ্টজনরা। পেশাজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন বেদৌরা নাজনীন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব ও মালয়েশিয়া বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহ এবং মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী মো. বাদলুর রহমান খান। এছাড়া, রেমিট্যান্স যোদ্ধা রবিন ও সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বীর শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশাত্মবোধক গান ও স্বাধীনতা দিবসভিত্তিক কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা, দেশপ্রেম এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরা হয়। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের অঙ্গীকার, গভীর দেশপ্রেম এবং ঐক্যের চেতনাকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এএমএ/জেআইএম