গায়েবানা জানাজার পরও সংস্কারহীন রংপুরের ‘প্রাণকেন্দ্র’ সাতমাথা সড়ক
2026-03-20 - 08:51
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে মাহিগঞ্জ সাতমাথা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব খানাখন্দে পানি জমে সড়কটি এখন জনসাধারণের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূল পথটির অধিকাংশ জায়গাই ভাঙাচোরা। বিশেষ করে ভারি যানবাহন চলাচলের ফলে গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। রিকশা, অটো-রিকশা এমনকি ব্যক্তিগত গাড়িগুলোও হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মাহিগঞ্জ এলাকাটি রংপুরের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র হওয়ায় এই সড়কটি অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। বড় বড় গর্তসহ সড়কজুড়ে খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও সংস্কার কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ। এর আগে ‘কর্তৃপক্ষ মারা গেছে’ মর্মে সড়কের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত বছরের ২০ জুলাই অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। তারপরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় অটো-রিকশা চালক মমতাজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালাইলে দিনশেষে শরীরের হাড়গোড় ঠিক থাকে না। চাকা দেবে যায়, মাঝেমধ্যে রিকশা উল্টে যাত্রী আহত হয়। আমরা বারবার বলে আসলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখছি না। ব্যবসায়ী সুজন চৌধুরী বলেন, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনে আসছি, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ লাঘবে চলাচলের অযোগ্য জাহাজ কোম্পানি-সাতমাথা সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। পুরো সড়কটি খাল-খন্দে পরিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি বলেন, প্রায় সময়ই এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে রংপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ লাঘবে চলাচলের অযোগ্য জাহাজ কোম্পানি-সাতমাথা সড়ক সংস্কারের দাবি জানান পলাশ কান্তি নাগ। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার আফজাল হোসেন বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের পর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নকাজ থমকে আছে। রংপুর নগরের জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা সড়ক দিয়ে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করেন। অথচ বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দেড় বছর ধরে খানাখন্দে ভরা। এ নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও সড়ক সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেয়া হতাশাজনক। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলে এসব গর্তে জমে থাকে পানি, আর শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্টি হয় প্রচণ্ড ধুলা। ফলে বছরজুড়েই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রোগী নিয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক সোহাগ মিয়া বলেন, রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়াসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিনই রোগী নিয়ে রংপুর মেডিকেলে আসতে হয়। সাতমাথা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত বেহাল সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের পর যত দ্রুত সম্ভব সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। জিতু কবীর/কেএইচকে/এমএস