সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা যাবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
2026-02-15 - 03:16
সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমদানি রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে এ সময় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানির সুযোগ পাওয়া ৬১ প্রতিষ্ঠানের কাছেও ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা শেষ হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন সময় বাড়ানো হলো। প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী, ১০০, ১৫০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ টন করে অনুমতি দেওয়া হয় গত বছরের এপ্রিলে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ পুরোটা রপ্তানি করেছে, কেউ করেছে আংশিক। তবে অভিযোগ রয়েছে, যাদের সক্ষমতা ভালো রয়েছে, তাদের অনেকে বেশি পরিমাণে চাল রপ্তানির অনুমতি পায়নি। আবার সক্ষমতা না থাকা প্রতিষ্ঠান বেশি পরিমাণ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। সুগন্ধি চাল রপ্তানির শর্ত হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হতে হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ১৯৫ টাকা। অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল কেউ রপ্তানি করতে পারবে না। আর প্রতিটি চালান জাহাজীকরণ শেষে রপ্তানিসংক্রান্ত সব কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এ অনুমোদন কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদিত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে অন্যের মাধ্যমে রপ্তানি করতে পারবে না অর্থাৎ সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া যাবে না। রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সব সময়ই চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ, তবে সরকারের অনুমতি নিয়ে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু হয়। ২০২২ সালে এসে প্রথমবার চাল রপ্তানি বন্ধ করা হয়, এরপর মাঝে কিছু অনুমতি দিলেও ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধ করেছিল সরকার। তবে রপ্তানি শুরুর পর থেকে দ্রুত বেড়ে সুগন্ধি চাল বাংলাদেশি রপ্তানি ঝুড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য হয়ে উঠেছিল। এরপর সুগন্ধি চালের কারণে অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এরপর থেকে রপ্তানি আয় বাড়াতে দেশের ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার। দেশ থেকে প্রথম বছর ৬৬৩ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়। পরের বছরগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ হাজার ৮৭৯ টনে উন্নীত হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৬ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৫ লাখ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫১ লাখ মার্কিন ডলারের সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে বছরে গড়ে সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয় ১৮-২০ লাখ টন। আর আগে বছরে গড়ে রপ্তানি হয়েছে ১০ হাজার টন। অর্থাৎ উৎপাদনের তুলনায় চালের রপ্তানির হিস্যা অনেক কম। যে কারণে চাল রপ্তানিতে খাদ্য নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে বারবার দাবি করে আসছেন রপ্তানিকারকরা। এ পর্যন্ত বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে। দেশে রপ্তানিযোগ্য সুগন্ধি চালের একটি তালিকা রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। চালগুলো হচ্ছে কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়া, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসীমালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল, দুলাভোগ ইত্যাদি। সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ পাওয়া ৬১ প্রতিষ্ঠানের তালিকা এমএমকে/