যাত্রীর চাপহীন নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা
2026-03-17 - 06:34
রাজধানীর অন্যতম বড় বাসস্ট্যান্ড সায়েদাবাদে নেই ঈদের ঘরমুখো যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ। যাত্রী তুলনায় বাসের সংখ্যা বেশি হওয়ায়, নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন মানুষ। নেই অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে সায়েদাবাদ ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। সায়েদাবাদের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যাত্রী খুবই কম। ঈদের আগে এই যাত্রী পরিস্থিতিতে তারা অনেকটাই হতাশ। তবে ছুটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। যাত্রীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত গাড়ি তারা পাচ্ছেন। যাত্রী কম গাড়ি বেশি থাকায় অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে না তাদের। ঈদ যাত্রা শুরুটা ভোগান্তিহীনই বলে জানিয়েছেন বেশিরভাগ যাত্রী। তবে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘিরে আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজটের তীব্রতা দেখা গেছে। এটি টার্মিনালে বাস ও যাত্রীদের আসতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের নানা পদক্ষেপ চোখে পড়েছে। টার্মিনালে প্রবেশের মুখে একপাশে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোল রুম, অপর পাশে রয়েছে র্যাবের কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঘোড়ার টহলও দেখা গেছে। ঘোড়ায় চড়ে ডিএমপির সদস্যরা হ্যান্ড মাইকে যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতে দেখা গেছে। এছাড়া টার্মিনাল ভবনের সামনে রয়েছে বিআরটিএ’র সার্ভিলেন্স টিম। টার্মিনালের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় সাটানো আছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা। সায়েদাবাদ ব্রিজের মোড়ে গোল্ডেন লাইন, হানিফসহ বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। কাউন্টারের কর্মীরা জানিয়েছেন, যানজটের কারণে গাড়ি আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে তাই যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন। যাত্রীর তেমন চাপ নেই। জনপথ মোড়ে চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করি সিডিএম গাড়ির টিকিট বিক্রি করছিলেন রাজু। তিনি বলেন, সকালে কিছুটা যাত্রীর চাপ ছিল, এখন একেবারেই কম। যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ থাকা ভালো নয়। একবারে সব চাপ পড়লে যাত্রীদেরও ভোগান্তি, গাড়িওয়ালাদেরও কষ্ট। কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের চালক আল আমিন বলেন, এত কম যাত্রী কোনো ঈদে দেখিনি। তবে যানজটের কারণে টার্মিনাল আসতে অনেক দেরি হয়েছে। আধা ঘণ্টারও বেশি সময়ে মাত্র ৪/৫ জন যাত্রী পেয়েছি। কুমিল্লার ভাড়া ২০০ টাকা। সেখানে ১০০/১৫০ টাকায় ডেকেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকার একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী শফিউল আলম ও নাজিউর রহমান। তারা কুমিল্লা যাবেন। শফিউল জানান, গাড়ি পর্যাপ্ত আছে। ভাড়াও মোটামুটি আগের মতোই। গাড়ি বেশি থাকায় একটু দামদর করে কম ভাড়ায় যাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সোমবারই ছিল শেষ কর্মদিবস। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আরএমএম/এসএইচএস