TheBangladeshTime

সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে মালামাল বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক

2026-03-24 - 03:50

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে পুরোনো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রি করেছেন অসীম কুমার দাস (৪৫) নামের একজন শিক্ষক। তিনি উপজেলার ৪৯ নম্বর ব্রাহ্মণকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার কৃষি অফিসের গোডাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বন বিভাগের অফিস সংলগ্ন সরকারি কৃষি অফিসের গোডাউন থেকে পুরোনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ বিক্রি করার জন্য ভাঙারি বিক্রেতাকে দোকান থেকে ডেকে এনে বিক্রি করছিলেন শিক্ষক অসীম কুমার দাস। তখন বন বিভাগের বাগান মালি সেলিম হোসেন বিষয়টি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে নেছারাবাদ কৃষি অফিসে কর্মরত রথীন কুমার ঘরামীর হস্তক্ষেপে বিক্রি করা ওই মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনে রাখা হয়। মালামালগুলোর ক্রেতা ভাঙারি দোকানদার আলী হোসেন বলেন, ‌‘অসীম স্যার আমার দোকানে গিয়ে দোকান বন্ধ পান। তাই দোকানের সাটারে লেখা আমার মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে কিছু পুরোনো মালামাল বিক্রি করবেন বলে জানান। আমি সকালে ওই মালামাল কিনতে গিয়ে দেখি সরকারি গোডাউনের মালামাল। প্রথমে কিনতে রাজি না হলেও অসীম স্যার বলেন, অফিসার সাহেবেরা বিক্রি করতে বলেছে। তাদেরকে কিছু টাকা দিতে হবে। তাই বুঝতে পারি ওটা চোরামাল ছিল। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় মালামাল কিনতে পারিনি। ওখানে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের পুরোনো পাওয়ারটিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ছিল।’ প্রত্যক্ষদর্শী নেছারাবাদ বন বিভাগের বাগান মালি সেলিম হোসেন বলেন, ‘সকালে বাগানে পানি দিচ্ছিলাম। এসময় গোডাউনের সামনে পুরোনো পাওয়ারটিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ভাঙারি দোকানদারের কাছে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ওজন দিচ্ছে দেখে কাছে যাই। কাছে গিয়ে দেখি অসীম স্যার ওই যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করছেন। পরে দেখি গোডাউনের তালা ভাঙা। ঈদুল ফিতরের ছুটির সুযোগ নিয়ে সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা তার ঠিক হয়নি।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার দাস বলেন, ‘আমার বাসার সামনেই কৃষি অফিসের গোডাউন। এটা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় আছে। ওখান থেকে পাওয়ার পাম্পের কয়েকটি যন্ত্রাংশ (২০ কেজির মতো) বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।’ তালা ভাঙার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘গোডাউনের তালা আমি ভাঙিনি।’ নেছারাবাদ কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি ঈদের ছুটি উপলক্ষে ছুটিতে আছি। বিষয়টি জানার পরে আমাদের সহকর্মী রথীন কুমার গোড়ামীকে সরেজমিনে পাঠিয়েছিলাম। তিনি মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনের তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে এসে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ নেছারাবাদ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মো. তরিকুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

Share this post: