TheBangladeshTime

জমির লোভে ছেলের বাঁশের আঘাতে রক্তাক্ত মা, কারাগারে ছেলে

2026-01-28 - 15:11

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নওগাঁয় মাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা বিলকিস আক্তার (৬৩) বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার ছেলে জুমাতুল এম ইসলাম (৩৫) এবং তার সহযোগী সিরাজুল ইসলামকে (৫০)। তারা শহরের করনেশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় করা মামলায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে অভিযুক্ত ছেলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বাবা আমিনুল ইসলাম কবিরাজের মৃত্যুর পর ওয়ারিশান সম্পত্তির বেশিরভাগ এককভাবে দখল করেন জুমাতুল এম ইসলাম। গত ১৩ জানুয়ারি কুমুরিয়া এলাকায় মা বিলকিস আক্তারের নিজ নামীয় অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান ছেলে। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মা বিলকিস আক্তার। এতে বাঁধা দিতে গেলে মায়ের বাম চোখ বরাবর সজোরে ঘুসি মারেন ছেলে জুমাতুল এম ইসলাম। এরপর তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে সজোরে মাথায় দুবার আঘাত করেন। এতে বিলকিস আক্তার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগী বিলকিস আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‌জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার ছেলে জুমাতুল ইসলাম ও তার সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একাধিকবার ছেলের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এসব ঘটনার প্রমাণ রাখতে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও মধ্যরাতে তা কেটে ফেলা হয়। সবশেষ প্রকাশ্যে সবার সামনে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। বিলকিস আক্তারের ছোট মেয়ে নুর-ই আফসানা বলেন, বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার ছোট ভাই বারবার মায়ের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নিজ বাড়িতেও মাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয় না। একাধিকবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি তার মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ছেলের হাতে মায়ের আহত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদালতের নির্দেশনায় মামলাটি এরইমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধান আসামি জুমাতুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামি সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আরমান হোসেন রুমন/এসআর/জেআইএম

Share this post: