TheBangladeshTime

সমাজের একটি অংশ নয়, সবাই মিলে ভালো থাকবো: প্রধানমন্ত্রী

2026-03-27 - 15:11

বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ভালো থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, যদি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, আসুন এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক... সমাজের একটি অংশ নয় বরং আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই দেশে ভালো থাকবো। আমরা প্রত্যেকে সহঅবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করবো... এই হোক আমাদের আজকের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা। সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের নির্বাচিত সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের প্রতিষ্ঠিত সরকার। তারেক রহমান বলেন, সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) তার বক্তব্যে বলে গেছেন, শেষ পর্যন্ত তৎকালীন বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। সুতরাং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব গাঁথা তা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে এবং এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তিনি বলেন, তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা অবশ্যই আমাদের জন্য ঠিক হবে না—যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব ইতিহাস তাকে কোনোভাবে খাট করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান, তার অবদান ও কাজকে খাট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হঠাৎ করেই কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেননি। তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শহীদ জিয়ার নিজের লেখা একটি প্রবন্ধ আছে, যার শিরোনাম ‘একটি জাতির জন্ম’। প্রবন্ধটি যথেষ্ট বড়। আমি খুব সংক্ষেপে সেই প্রবন্ধের দুই একটি লাইন আপনাদের সামনে বলবো। যেখান থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে পুরো বিষয়টি। এই প্রবন্ধের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি, স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন। বহু দিন যাবত শহীদ জিয়া এই স্বপ্ন লালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই প্রবন্ধটি বা নিবন্ধটির শেষ প্যারায় শহীদ জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ের লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে, এ দিনটিকে ভালোবাসবে। এই দিনটি তারা কোনোদিন ভুলবে না, কোনো দিন না... এভাবেই উনি লিখেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে কি হয়েছিল আমি মনে করি, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করেন এই তথ্যটি অবশ্যই তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরেও বিশ্বের যেখানে যারা স্বাধীনতার লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন একমাত্র তাদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব স্বাধীনতার মূল্য কতখানি। আমরা যদি একটু পাশে তাকাই তাহলেই দেখতে পারবো স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারছে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের মানুষ। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ। কেএইচ/এমএমকে

Share this post: