TheBangladeshTime

৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে যেতে হবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের

2026-03-03 - 08:43

এপ্রিল মাসে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। প্রায় এক মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের পরীক্ষার্থীদের এবার চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। ইউনিয়নে কিংবা অদূরে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পরীক্ষার্থীদের মূল কেন্দ্রে যেতে হবে। রাস্তা অনুন্নত হওয়ায় কেন্দ্রে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। অন্যদিকে দারিদ্র অধ্যুষিত অঞ্চলটির শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যায় যাতায়াত ভাড়া বহন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাই সুতারখালী ইউনিয়নে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে দরখাস্ত করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা আবেদনে উল্লেখ করেন, আমরা সুতারখালী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। আমাদের ইউনিয়নটি নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকা। অধিকাংশ পরিবার সুন্দরবন নির্ভর জীবিকায় যুক্ত এবং তাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে আমাদের ইউনিয়নের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ইউনিয়ন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এর ফলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খাতে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, যা অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে। যা আমাদের এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। আমাদের ইউনিয়নে উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো রয়েছে। যা পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। জনস্বার্থ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সুতারখালী ইউনিয়নে একটি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুতারখালী ইউনিয়ন খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার অন্তর্গত একটি উপকূলীয় এলাকা। দাকোপ উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে সুতারখালী নদীর তীরে অবস্থিত। সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকাটি নদীভাঙন এবং ঘূর্ণিঝড়ে জর্জরিত। প্রায় সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়ে থাকে অঞ্চলটি। স্থানীয়রা কৃষি এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৭০ ভাগ মানুষের আয়ের উৎস কৃষিকাজ। এই অঞ্চল থেকে মফস্বল এলাকা প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে। সুতারখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা সরফরাজ মোড়ল বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকার মূল উপায় কৃষিকাজ। আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো না। দূরে পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় বাড়ি থেকে বাচ্চাদেরতো একা ছাড়া যায় না। সঙ্গে বাবা-মা গেলে পরীক্ষার দিন ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হবে। কিন্তু পরীক্ষার কেন্দ্র আশপাশে হলে ভালো হতো। সময়-টাকা দুটোই বাঁচতো। দাকোপের বাসিন্দা শেখ আলাউদ্দিন বলেন, দাকোপ গরিব এলাকা। জোগাল খেটে সারাদিন কৃষকদের ৩০০-৪০০ টাকা আয় করতে আধ বেলা রোদে থাকতে হয়। সেই জায়গায় দূরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে তাদের হাড়মাংস এক হয়ে যাবে। এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো একটু পাশাপশি হলে ভালো হতো। পরীক্ষার্থী বিদুষী বলেন, পরীক্ষার দিন যাওয়া আসা করতে অনেক কষ্ট হয়ে যাবে। বাবার সাইকেলে করে যাবো ভাবছি। তাতেওতো ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে। আবার বাসায় ফিরে আসতেও সময় লাগবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ভ্যানে যাওয়ার মতো পথ হলেও উপকার হতো। আরেক পরীক্ষার্থী জোবায়ের মোল্যা জানায়, তার বাবা সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেছে। আসতে এখনো দুই মাস সময় লাগবে। ছোট ভাই, নানি আর মা থাকে বাড়িতে। কিন্তু পরীক্ষার সময় তাকে একা যেতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ঠিক হয়নি এখনো। এজন্য এখনো যাওয়ার উপায় ঠিক হয়নি। তবে ভ্যানে করে যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরিফুর রহমান/এফএ/এএসএম

Share this post: