মবের মুল্লুক না কি?
2026-03-18 - 06:21
পথিক কাজী উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সাম্প্রতিক সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ব্যাধির বহিঃপ্রকাশ। তুচ্ছ কথা কাটাকাটি থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার লক্ষণ হতে পারে না। যখন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি ডালপালা মেলে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। এই ঘটনাগুলোকে এক সূত্রে গাঁথলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীকে হেনস্থাকারীকে ছাড়িয়ে নিতে শাহবাগ থানায় মব সৃষ্টি করা হয়েছিল। আবার ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র অফিসগুলোতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। উত্তরা স্কয়ারের তাণ্ডব কি সেই একই উগ্র মানসিকতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা নয়? এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না; বরং এটি বিচারহীনতার এক ভয়ংকর চেইন রিঅ্যাকশন, যা সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। জনবহুল এলাকায় এমন তাণ্ডব চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শ্লথ ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া কি অপরাধীদের আরও দুঃসাহসী করে তুলছে না? পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা আজ জনমনে তীব্র প্রশ্নবিদ্ধ। এই অরাজকতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ কি সরকার দেবেন? নাকি বরাবরের মতো সব দায়ভার সেইসব খেটে খাওয়া রিকশাচালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে, যারা অনেক সময় পরিস্থিতির শিকার বা ক্রীড়নক হয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে ভাংচুরে অংশ নেয়? আমরা এই ‘মব জাস্টিস’ এর নামে চলমান অরাজকতার অবসান চাই। উত্তরা স্কয়ারসহ প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, আমরা একটি সভ্য সমাজ থেকে ক্রমশ অন্ধকারের মবের মুল্লুকের দিকেই ধাবিত হব। আইন ও ন্যায়বিচারকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যায় না। যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারাই কি আসল অপরাধী? নাকি আসল চক্রান্তকারীরা চিরকাল থেকে যাবে আলোর উৎসের আড়ালে? এমআরএম