TheBangladeshTime

কাতারে হামলা, সবচেয়ে বেশি গ্যাস সংকটে পড়বে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান

2026-03-19 - 10:41

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো; বিশেষ করে- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। কারণ, এসব দেশ তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বড় অংশের জন্য কাতারের ওপর নির্ভরশীল ও এই দেশগুলোর মজুতও সীমিত। ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে দুই দফা আঘাত হানে, যার ফলে উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত রাস লাফানকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে গ্যাস পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বন্দর সুবিধা একত্রে রয়েছে। কাতার বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। আবার প্রায় পুরো গ্যাসই এই রাস লাফান থেকে পাঠানো হয়। মার্চের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। এর সঙ্গে উৎপাদন স্থাপনাগুলোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি, রাস লাফান এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার আরও অনেক দেশে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। ফলে সরবরাহে এই বিঘ্ন বিশ্বজুড়েই প্রভাব ফেলতে পারে। এলএনজি ছাড়াও রাস লাফানে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো সার উৎপাদন করা হয়, যা কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এখানে সালফার ও হিলিয়াম উৎপাদন হয়। মাইক্রোচিপ তৈরিতে অপরিহার্য এই গ্যাসের বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই আসে এখান থেকে বলে জানিয়েছে কাতারএনার্জি। কাতার উপদ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি। এটি পারস্য উপসাগরের একটি বিশাল গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে, যা কাতার ও ইরানের মধ্যে ভাগাভাগি করা। কাতার এটিকে ‘নর্থ ডোম’ নামে ডাকে, আর ইরান একই ক্ষেত্রকে ‘সাউথ পার্স’ হিসেবে চিহ্নিত করে। সূত্র: সিএনএন এসএএইচ

Share this post: