খাল খনন কাজে অপচয়-দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না
2026-03-16 - 13:34
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন কাজের তদারকিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেন, সরকারের এই উন্নয়ন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অপচয় বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। অনিয়ম দেখলেই সরাসরি ফোন বা মেসেজ দিয়ে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রধান কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের মুরলী-ভাবকি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নিয়ে দেশব্যাপী এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তা অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে আবারও এই যুগান্তকারী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দেশের নদী ও খালগুলো সচল থাকলে আমাদের জলাবদ্ধতা ও খরা সংকট চিরতরে দূর হবে। স্থানীয় কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের এলাকায় কৃষকের আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খালগুলো খনন করা হলে এই ওয়াটার লগিং (জলাবদ্ধতা) আর থাকবে না। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই জয়পুরহাট জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির অধীনে থাকা সব খালের খননকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে খরার সময় মানুষ সেচের পানি পাবে এবং মাছ চাষও সম্প্রসারিত হবে। সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভোটের কালির দাগ শুকানোর আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসেই চিকিৎসা ভাতার পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে। এসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ দেখা হচ্ছে না। দেশের সকল নাগরিককে সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত দেশ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। এটি শুধু গতানুগতিক নির্দেশ দিয়ে বসে থাকার সরকার নয়, এটি কাজ করার সরকার। আমরা সার্বক্ষণিক অ্যাকশনে আছি। তদারকিতে স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরপরেও যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য পেলে আপনারা সরাসরি আমাকে ফোন দেবেন। ফোনে না পেলে আমার সরকারি নম্বরে মেসেজ দেবেন। তথ্য যাচাই করে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা পরিষদের নবাগত প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এটিএম শাহনেওয়াজ কবির শুভ্রসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। মাহফুজ রহমান/এমএন/এএসএম