বিদেশি মদ রাখার অভিযোগ, ৫ বছরের সাজা হতে পারে কণ্ঠশিল্পী আসিফের
2026-03-05 - 00:14
অফিসে চার বোতল বিদেশি মদ রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয় দণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্র জানায়, যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হবে। অথবা সেদিনও রায় ঘোষণা হতে পারে। মামলায় মোট তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার বাদী সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার ১৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য দেন। মঙ্গলবার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক জামাল উদ্দিন এবং শাহিনুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার বাদী প্রশান্ত কুমার সিকদার আদালতে বলেন, ২০১৮ সালের ৬ জুন পান্থপথের আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট কার্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় গ্রেফতারের সময় আসিফ আকবরের অফিস কক্ষ থেকে চার বোতল টাকিলা মদ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদফতরে পাঠানো হয়। লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) টেবিলের ২৪(ক) ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি প্রমাণিত হলে কী শাস্তি হতে পারে? এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার জাগো নিউজকে বলেন, রায় দেওয়ার এক্তিয়ার একমাত্র বিচারকের। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে ফৌজদারি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করা অনুরোধে জাগো নিউজকে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮- এর ৩৬(১) টেবিলের ২৪(ক) ধারায় লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ (অ্যালকোহল) দখলে রাখা বা সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে; আদালত চাইলে উভয় দণ্ড একসঙ্গেও দিতে পারেন। তবে কারাদণ্ডের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ নির্ভর করে মামলার প্রমাণ, জব্দকৃত আলামতের পরিমাণ, অপরাধের পরিস্থিতি এবং আদালতের বিবেচনার ওপর। চূড়ান্ত রায় দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র বিচারকের। এমডিএএ/এএমএ