হঠাৎ হাসপাতালে গিয়ে ১৬ ডাক্তারের মধ্যে ৮ জনকে পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
2026-03-07 - 08:14
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট। সাধারণ রোগীরা যখন হাসপাতালের বারান্দায় ভিড় করতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই কোনো প্রকার প্রটোকল ছাড়াই পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে প্রবেশ করেই তিনি সরাসরি হাজিরা খাতা এবং ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করেন। চিকিৎসকরা ঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করেন। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মূলত চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি ও সেবার মান যাচাই করতেই এই ঝটিকা সফর মন্ত্রীর। এসময় রোস্টার অনুযায়ী হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনকে উপস্থিত পান মন্ত্রী। এর মধ্যে ২ জন আবার নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন। বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্টাফকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে প্যাথলজি ল্যাব এবং বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ওষুধের স্টক ঠিক আছে কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পেয়েছি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময় মতো ডাক্তাররা আসেন না। এরই প্রেক্ষিতে আজ সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করে তার সত্যতা পেয়েছি। আমরা আজ কর্তব্যরত ১৬ জন ডাক্তারের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি পেয়েছি। ডাক্তাররা মানবিক কাজ করেন। আমরা স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হন না। যারা উপস্থিত হয়নি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলমসহ প্রমুখ। সঞ্জিত সাহা/এফএ/এএসএম