জেট ফুয়েলের ‘অযৌক্তিক’ মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বান
2026-03-24 - 12:02
জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক দাবি করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় এওএবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সিদ্ধান্তে জেট ফুয়েলের (জেট এ-১) মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক। আজ বিইআরসির সভায় ৫ থেকে ২২ মার্চ সময়ের প্ল্যাটস হারের গড়, জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ও ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত বিবেচনায় জেট এ-১ এর মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটার ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০২ দশমিক ২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ০ দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার হয়েছে। এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে আগমন করেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিকসময়ে তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ। এওএবি মনে করে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইনগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে। একই সঙ্গে জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের প্রতি সংস্থাটির জোরালো আহ্বান- জেট ফুয়েলের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হোক, যাতে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এমএমএ/একিউএফ