সিগারেটের দাম বাড়ায় ৩৭ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী ধূমপান কমিয়েছেন
2026-03-04 - 14:04
তামাকে কর বাড়ানোয় ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী ধূমপান কমিয়েছেন। যদিও দেখা যায় এরপরও সিংহভাগ তরুণ ধূমপান কমাননি, বরং তাদের বড় অংশ কম দামের নতুন ব্র্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়েছেন। মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তামাকে কর বৃদ্ধি না করায় এর দৃশ্যমান ফলাফল মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে না। এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), পাবলিক হেলথ২৪.কম ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এক সভার আয়োজন করে। ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সভাকক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে নিম্ন মূল্যস্তরের সিগারেট বাজারে আসলেও অন্য মূল্যস্তরের তুলনায় এর করভার ছিল অনেক কম। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাংলাদেশ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে সব মূল্যস্তরের সিগারেটের ওপর সমানভাবে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে। এ উদ্যোগ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকেও ত্বরান্বিত করার কথা। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর বৃদ্ধি না করায় তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জিত হয়নি। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে কর বৃদ্ধি পরবর্তীতে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন এবং ব্র্যান্ড পরিবর্তনের চিত্র নিরূপণে দেশের ৮টি বিভাগীয় জেলা থেকে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩৯১ জন তরুণ ধূমপায়ীর ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করা হয়। আরও পড়ুন ধূমপানের প্রবণতা কমেছে গণপরিবহনে: গবেষণা প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা ২ হাজার টাকা, অধ্যাদেশ জারি গবেষণায় উঠে এসেছে, সিগারেটের কর/মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও মাত্র ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী তাদের ধূমপানের পরিমাণ কমিয়েছেন। বিপরীতে ৫৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ধূমপায়ী ধূমপানের মাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছেন। মূল্য বৃদ্ধির পরও একাধিক স্তর থাকায় ধূমপায়ীদের বড় একটি অংশ বিকল্প কৌশল হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যের সিগারেট বা নতুন ব্র্যান্ডে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে ৭৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ ধূমপায়ী নতুন বা কম দামের ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছেন, ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ সরাসরি ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেছেন এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ অন্তত কিছু পরিমাণে নতুন ব্র্যান্ড গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ধূমপায়ী অন্য প্রয়োজনীয় খাতের ব্যয় সংকুচিত করে সিগারেট ক্রয় অব্যাহত রেখেছেন, যা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবণতার চিত্র বহন করে। গবেষণাটি ইঙ্গিত করে, তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে একটি শক্তিশালী ও প্রমাণভিত্তিক তামাক কর নীতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে করভার সমন্বয় করার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যস্তরভিত্তিক সিগারেটের বাইরে অন্য কোনো ব্র্যান্ড বাজারে যাতে না আসে, সে জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। ইএইচটি/কেএসআর