পর্যটক বরণে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি, পাহাড়জুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা
2026-03-19 - 09:00
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। টানা দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের জনপদ খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ঢল নামার প্রতীক্ষায় রয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ থেকে সাজেক ভ্যালি—সবখানেই এখন সাজ সাজ রব। পর্যটকদের বরণে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে হোটেল-মোটেল ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সংস্কার কাজ। একই সঙ্গে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়-অরণ্য, ঝিরি-ঝরনা আর মেঘের উপত্যকায় ঘেরা খাগড়াছড়ি সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের প্রিয়। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণে থাকে আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ ও পর্যটন কেন্দ্র, জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ, পানছড়ির মায়াবিনী লেক, তারেং ও পাহাড়ি ঝরনা রিছাং। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বরত কোকোনাথ ত্রিপুরা জানান, এবার ঈদে পর্যটক সমাগম অনেক বাড়বে বলে আশা করছি। রমজানে পর্যটক কম থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এদিকে দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলের প্রায় ৫০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্রকিরণ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটন শহর খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের বরণে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, ভালো ব্যবসা হবে। খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ইনচার্জ ক্যাচিং মারমা জানান, ঈদের পরদিন থেকেই আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। টানা ৫ থেকে ৭ দিন পর্যটকদের চাপ থাকবে। আমরা তাদের সেবা দিতে প্রস্তুত। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হবে এবং মোবাইল টিমও সক্রিয় থাকবে। খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, ঈদের সময় ও পরবর্তী দিনগুলোতে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে আমাদের টিম কাজ করবে। কোনো পর্যটক দুর্গম এলাকায় বিপদে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ বছরের ঈদের পরবর্তী ৭ দিনে খাগড়াছড়ি এবং সাজেকে ৫০-৬০হাজার পর্যটক এখানে ঘুরতে আসতে পারে। প্রবীর সুমন/কেএইচকে/এমএস