TheBangladeshTime

এখন থেকে একাদশে নিয়মিত তিন পেসার খেলাতে চান সিমন্স

2026-03-09 - 09:34

ঘরের মাঠে সিরিজ, মিরপুরের উইকেট- দুইয়ে মিললেই বাংলাদেশের একাদশে দেখা যায় স্পিনারদের আধিপত্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত অক্টোবরেও ৩ ম্যাচের সিরিজে পেসাররা বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৫ ওভার। এর মধ্যে শেষ ম্যাচে একাদশে থাকা একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান বোলিং করার সুযোগই পাননি। তবে এই স্পিন নির্ভরতা থেকে এবার বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। আগামী ১১ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। এই ম্যাচের আগে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে টাইগারদের হেড কোচ বললেন, এখন থেকে তারা একাদশে নিয়মিত তিন পেসার নিয়ে খেলার চেষ্টা করবেন। চার মাসের বেশি সময় পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। প্রথম ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ২ ওভার ও মোস্তাফিজুর রহমান করেছিলেন ৫ ওভার। দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ ওভার বল করেন মোস্তাফিজ, তিনি শেষ ম্যাচে একাদশে থেকেও বোলিং করার সুযোগ পাননি। ওই সিরিজের উইকেটও ছিল খুবই স্পিন সহায়ক। ৩ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রিশাদ হোসেন। এমনকি এই তালিকায় ১০ জনে মাত্র একজন পেসার ছিলেন, ৩ ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়া মোস্তাফিজুর। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে গড়াবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই সংস্করণে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মিত টাইগাররা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান সিরিজ থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করছে। আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বকাপ হওয়ায় সেখানকার উইকেট বিবেচনায় একাদশে নিয়মিত অন্তত ৩জন পেসার খেলানোর পরিকল্পনা করছেন টাইগারদের হেড কোচ ফিল সিমন্স। হোম অফ ক্রিকেটে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেসারদের সুযোগ দেওয়া উচিত কিনা প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা এখন থেকে নিয়মিত তিনজন জেনুইন পেসার নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। কারণ আপনি যেমনটা বললেন, বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সেখানে খেলতে হলে আপনাকে পেসারদের ওপর নির্ভর করতে হবে। পরিস্থিতি ভেদে হয়তো মাঝে মাঝে তিনজন স্পিনার লাগতে পারে, কিন্তু এক স্পিনার দিয়ে দুই প্রান্তে বোলিংয়ের দিন শেষ। আপনাকে গন্তব্য (বিশ্বকাপের ভেন্যু) অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে এবং তিনজন পেসারই আমাদের মূল পরিকল্পনা থাকবে।’ তবে মিরপুরের উইকেট তিন পেসার খেলানোর সুযোগ দিবে কিনা এটাও বড় প্রশ্ন! যদিও সিমন্স মনে করছেন হোম অফ ক্রিকেটের উইকেটের চিরাচরিত চরিত্র বদলাচ্ছে। কয়েকদিন আগে বিসিএলের ফাইনালের আগেও নর্থ জোনের বোলিং কোচ তারেক আজিজ খান বলেছিলেন একই কথা। এরপর বিসিএলের ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রান হয়েছিল। আর দুদিন আগে বিসিবি একাদশ ও অল স্টারের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে হয়েছিল ২৯৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উইকেট নিয়ে কিছু বলেছেন কিনা বা উইকেটের ব্যাপারে কি জানেন প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘না, আমার কাছে এবারের উইকেটগুলো আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। আমি বিপিএলের শেষদিকের ম্যাচগুলো দেখেছি, এমনকি দুই দিন আগের ম্যাচটাও দেখেছি; উইকেট এখন অনেক ভালো। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সবসময়ই ভালো উইকেটে খেলতে চাই যাতে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করা যায়। আমার মনে হয় উইকেট আগের চেয়ে বেশ ভালো, দেখা যাক কী হয়।’ উইকেট বাজে হলেও স্পিনারদের দাপটে শেষ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সিমন্স এর থেকে পিছনে ফিরতে চান না, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা খুব ভালোভাবে শেষ করেছিলাম, আমরা সেখান থেকে আর পেছনে ফিরতে চাই না। আর একটা বিষয় হলো, সেই সিরিজের তুলনায় এবারের উইকেটগুলো দেখতে অনেক বেশি ভালো মনে হচ্ছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নতি করা এবং পরের ধাপে যাওয়া; অর্থাৎ গত সিরিজের শেষ ম্যাচে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছিলাম, সেটা ধরে রাখা। এছাড়া আমাদের আরও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে মিডল ওভারগুলোতে আমরা খুব একটা ভালো করছি না। আর বোলিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মাঝের ওভারগুলোতে আরও উইকেট নিতে হবে। এই দুটি জায়গাতেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব।’ এসকেডি/আইএইচএস/

Share this post: