TheBangladeshTime

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নারী বিচারপতি তুলনামূলক কম

2026-03-08 - 07:14

নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে দেশের বিচার বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে অধস্তন আদালত পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নারীরা দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে দেশের অধস্তন আদালতে কর্মরত দুই হাজার ১৭৯ জন বিচারকের মধ্যে ৬২৫ জন নারী। অর্থাৎ মোট বিচারকের প্রায় ২৮ শতাংশই নারী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকার ভিত্তিতে তারা বিচার বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে শতাধিক বিচারপতির মধ্যে বর্তমানে ১২ জন নারী বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে আপিল বিভাগে রয়েছেন একজন এবং বাকিরা হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত। অতীতের তুলনায় এটি অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি হলেও এখনও উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অধস্তন আদালতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চ আদালতে সেই অনুপাতে নারী বিচারপতির সংখ্যা বাড়ছে না। তাই উচ্চ আদালতে আরও নারী বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের আগে উচ্চ আদালতে কোনো নারী বিচারপতি ছিলেন না। বর্তমানে হাইকোর্টে কর্মরত নারী বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি ফাতেমা নজীব, বিচারপতি কাজী জিনাত হক, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের, বিচারপতি মুবিনা আসাফ, বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা, বিচারপতি তামান্না রহমান, বিচারপতি নাসরিন আক্তার, বিচারপতি সাথিকা হোসেন, বিচারপতি জেসমিন আরা বেগম, বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এবং বিচারপতি উর্মি রহমান। এছাড়া আপিল বিভাগে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চে রিট, ফৌজদারি মোশনসহ নানা ধরনের মামলার শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করছেন। অধস্তন আদালতে কর্মরত ৬২৫ নারী বিচারকের মধ্যে জেলা জজ ৬১ জন, অতিরিক্ত জেলা জজ ৮৭ জন, যুগ্ম জেলা জজ ১১২ জন, সিনিয়র সহকারী জজ ৯৬ জন এবং সহকারী জজ ২৬৯ জন রয়েছেন। শুধু বিচারকার্যই নয়, বিচার বিভাগ থেকে প্রেষণে আসা অনেক নারী বিচারক প্রশাসনিক দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন, আইন মন্ত্রণালয়, আইন কমিশন, লিগ্যাল এইডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারক দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারক ছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি ১৯৭৫ সালের শেষ দিকে প্রথম নারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। ২০০০ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালের ৬ জুলাই তিনি অবসরে যান। অবসরের পর তিনি বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আপিল বিভাগে আরও তিনজন নারী বিচারপতি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন—বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ এবং বিচারপতি কাশেফা হোসেন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, উচ্চ আদালতে আরও নারী বিচারপতি নিয়োগ হওয়া দরকার। তিনি বলেন, হাইকোর্টেও সংখ্যার দিক দিয়ে নারী বিচারপতি তুলনামূলক কম। তবে যাদেরই নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের সততা, নৈতিকতা ও যোগ্যতার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে বিচার করার মানসিকতাও থাকা জরুরি। তিনি আরও বলেন, অধস্তন আদালতে নারীরা খুব ভালো করছেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। পাশাপাশি তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার ঘাটতিও তুলনামূলক কম। নারী বিচারপতিদের অগ্রযাত্রা দেশের বিচার বিভাগে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতে বর্তমানে ১২ জন নারী বিচারপতির দায়িত্ব পালন বিচার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণের নতুন মাইলফলক। দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে তারা বিচার ব্যবস্থায় নারীর শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছেন। আইন অঙ্গনে তাদের এই উপস্থিতি শুধু বিচার ব্যবস্থাকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিচারকার্যের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করেও তারা নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিভিন্ন বিষয়ে রায় দিয়ে তারা দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধস্তন আদালতের তুলনায় উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখ্যা এখনও কম। তাই উচ্চ আদালতে আরও নারী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, দেশের অধস্তন আদালতে ২১৭৯ জন বিচারকের মধ্যে ৬২৫ জন নারী। এটি বড় একটি অগ্রগতি। আমরা যখন বিচার বিভাগে যোগ দিয়েছিলাম তখন নারী বিচারক ছিলাম মাত্র তিনজন। তিনি বলেন, বর্তমানে অধস্তন আদালতে প্রায় তিনভাগের এক ভাগ নারী বিচারক। প্রতি বছর জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষায় মেধা তালিকার প্রথম দিকেও নারীরা থাকেন। আশা করছি, অধস্তন আদালতের এই অগ্রগতি উচ্চ আদালতেও প্রতিফলিত হবে। তিনি আরও বলেন, অধস্তন আদালতের পাশাপাশি আইনজীবীদের মধ্যেও অনেক যোগ্য নারী রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকেও উচ্চ আদালতে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। ‌‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নারী প্রধান বিচারপতি পাওয়া অসম্ভব নয়’-বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের ১২ নারী বিচারপতি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব তিনি আপিল বিভাগের একমাত্র নারী বিচারপতি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৯২ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার আরেকটি পরিচয়, তিনি সাবেক মন্ত্রী ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমানের মেয়ে। হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে আজিমপুর কবরস্থান রক্ষার রায়, ধর্ষণের শিকার নারীদের মামলা দ্রুত গ্রহণের নীতিমালা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার রক্ষা, শিশু জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ বেগম ফাতেমা নজীব ২০১৮ সালের ৩০ মে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালের ৮ জুন তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৯৮৪ সালে মুন্সেফ হিসেবে বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া হংকং, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কাসহ বেশকিছু দেশ ভ্রমণ করেন। বিচারপতি কাজী জিনাত হক একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শরীফা খাতুনের ছোট মেয়ে বিচারপতি কাজী জিনাত হক। তিনি দুই মেয়াদে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর কাজী জিনাত হক হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের নাটোরের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ফাহমিদা কাদের ১৯৮১ সালে ঢাকার অগ্রণী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি নেন। তিনি আইন বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ (প্রবেশনার) হিসেবে যোগ দেন। বিচারক নিয়োগের ওই পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। সেখান থেকেই শুরু বিচারিক জীবনের পথ চলা। সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছর পরই ১৯৯৬ সালে প্রথম পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে কুমিল্লার আদালতে যোগ দেন। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে চাঁদপুরে যোগ দেন। ২০০৪ সালে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৪ সালে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিভাগীয় স্পেশাল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইলের জেলা জজ ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ৩১ জুলাই তাকে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মুবিনা আসাফ মুবিনা আসাফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আইন-পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি আইন পেশার শুরুতে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে ও ২০০৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি মুবিনা আসাফ ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর বিচারপতি মুবিনা আসাফকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারপতি নাসরিন আক্তার তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে আইনপেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্য নির্বাহী সদস্য, সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও ট্রেজারার হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন নাসরিন আক্তার। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা আইনুন নাহার সিদ্দিকার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ২০০০ সালে তিনি জজ কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বিভাগের ও ২০২০ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইনজীবী হিসেবে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করেছেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারপতি তামান্না রহমান বিচারপতি তামান্না রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আইনপেশায় যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০১৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলএলএম ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারপতি সাথিকা হোসেন সাথিকা হোসেন ১৯৯৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারপতি জেসমিন আরা বেগম ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রাজজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া জেসমিন আরা বেগম কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ ও সিলেটের জাজশিপসহ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালেও দায়িত্ব পালন করেন। জেসমিন আরা বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ আইনে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তিনি সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়েও আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাঠগ্রহণ করেন। নিজ জেলা সুনামগঞ্জ বারের প্রথম নারী আইনজীবী জেসমিন আরা বেগম শহীদ বুদ্ধিজীবী সুনাওর আলীর মেয়ে। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের স্ত্রী। বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচে তিনি বিচার বিভাগে যোগদান করেন। বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার ১৯৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ডের লিংকন’স ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮, ১৯৯৯ এবং ২০২৪ সালে যথাক্রমে জেলা আদালত, হাইকোর্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ২০০৮ সালে হেগের পিস প্যালেসে অবস্থিত হেগ একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল ল-এ বেসরকারি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। বিচারপতি উর্মি রহমান তিনি ২০০১ এবং ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে যথাক্রমে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৭ সালে নিউক্যাসলের নর্দামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (বার ভোকেশনাল কোর্স) সম্পন্ন করেন। একই বছর ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৩ সালের ৫ আগস্ট আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ২০০৮ সালের ১২ মে হাইকোর্ট বিভাগে অনুশীলনের অনুমতি পান এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকা ভুক্ত হন। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এফএইচ/এসএইচএস

Share this post: