TheBangladeshTime

উদ্বোধনের ৬ মাসেও অকেজো জাবি গ্রন্থাগারের অটোমেশন টুলস

2026-02-23 - 08:53

আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে চালু করা হয়েছিল একাধিক অটোমেশন টুলস। কিন্তু চালুর ছয় মাস পরও এসব প্রযুক্তির বেশিরভাগই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট জাবি গ্রন্থাগারের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একাধিক যুগোপযোগী অটোমেশন টুলস সংযোজন করা হয়েছিল। এসময় গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য আরএফআইডি ও ইউএইচএফ সিকিউরিটি গেট, সহজে বই খুঁজে পেতে ও ইস্যু করতে বুক সার্চিং ও ইস্যু কিঅস্ক এবং সহজে ইস্যুকৃত বই জমা দেওয়ার জন্য ড্রপবক্সের সংযোজন করা হয়। ড্রপবক্সের ফলে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে না এসেই তাদের ইস্যুকৃত বই অনুষদ বা আবাসিক হলে থেকে গ্রন্থাগারে জমা দিতে পারবেন। এছাড়া শিক্ষকদের টেক্সট কারেকশনের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে গ্রন্থাগারে গ্রামারলির সাবস্ক্রিপশন নেওয়া হয়েছিল। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রন্থাগারে প্রবেশের জন্য লাগানো আরএফআইডি ও ইউএইচএফ সিকিউরিটি গেট ঠিক থাকলেও বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীসহ সবাই সিকিউরিটি গেটের পাশে থাকা ম্যানুয়াল গেইট দিয়ে চলাচল করেন। সহজে বই খুঁজে পেতে বুক সার্চিং চালু থাকলেও এতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। সব বই সার্চ করে পাওয়া যায় না। আবার বুক সার্চিংয়ের পর কাগজে লিখে রিসিপশন দিয়ে বই খুঁজে নিতে হয়। যা আবারও সবাইকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিয়ে যায়। আবার ইস্যুকৃত বই অনুষদ বা আবাসিক হলে থেকে গ্রন্থাগারে জমা দেওয়ার জন্য ড্রপবক্সের চালু হওয়ার কথা থাকলেও ছয় মাস পরেও এখনো তা চালু করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী গ্রন্থাগারের অটোমেশন টুলস নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বলে গ্রন্থাগারে লোক দেখানো কিছু অটোমেশন টুলস সংযোজন করা হয়েছে। কোনটিই শিক্ষার্থীদের তেমন কাজে আসে না। প্রবেশ পথে লাগানো সিকিউরিটি গেইট বন্ধের মতোই থাকে। সবাই পাশের গেট দিয়ে যাতায়াত করে। সার্চিং বুকে এখনো সব বই এন্ট্রি করা হয়নি। আর ড্রপবক্সের কথা বললেও কোনো কাজ হয়নি এখনো। এ বিষয়ে জাকসুর তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বলেন, বুক সার্চিং মেশিনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বই এন্ট্রি করা হয়েছে। সব বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির বইও এন্ট্রি করার কাজ চলছে। দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলেছি, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবে বলে আশাবাদী। আর ড্রপবক্সের কথা দীর্ঘদিন ধরে স্যারকে বলে আসছি, তিনি বুক সার্চিং মেশিনের কাজ শেষ হলে করা হবে জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের প্রোগ্রামার আব্দুর রহমান বলেন, গ্রন্থাগারে লাগানো অটোমেশন টুলস সবগুলোর কাজ চলছে। বুক সার্চিং মেশিনে বেশিরভাগ বই এন্ট্রির কাজ শেষ। বাকিগুলোরও অতিদ্রুত সময়ে কাজ শেষ হবে। কিছু জটিলতার জন্য এখনো ড্রপবক্সের সুবিধা চালু করা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করতে ড্রপবক্সসহ আরও কিছু অটোমোশন টুলস গ্রন্থাগারের সংযোজনের কাজও চলছে। আর সিকিউরিটি জন্য গেটে লাগানো আরএফআইডি ও ইউএইচএফ চলমান রয়েছে কিন্তু আইডি কার্ড জটিলতায় শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করছে না। এ বিষয়ে গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি শিক্ষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সব বইসহ বিভাগীয় গ্রন্থাগারগুলোর সব বই আরএফএইডি করার কাজ চলছে। সব বই আরএফএইডির অন্তর্ভুক্ত হলে তবে বুক সার্চিং মেশিনে সব বই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি তখন ড্রপবক্সের মাধ্যমে বই দেওয়া নেওয়াও সম্ভব হবে। সম্পূর্ণ গ্রন্থাগার অটোমেশন করার কাজ চলমান রয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে যাওয়ার আগে সম্পূর্ণ গ্রন্থাগার অটোমেশনের আওতাধীন হবে। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এমএন/জেআইএম

Share this post: