গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ পর্তুগাল ও মেক্সিকোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ
2026-03-29 - 04:00
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় পর্তুগাল ও মেক্সিকো। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও জিততে পারেনি কোনো দল। ম্যাচটি শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। মেক্সিকো সিটির নবনির্মিত এস্তাদিও বানোর্তে পুরো ম্যাচজুড়েই দুই দলই শক্ত রক্ষণভাগ ও সংগঠিত খেলায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধে তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি করে মেক্সিকো। মিডফিল্ডে চাপ সৃষ্টি ও দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলে পর্তুগালের রক্ষণে ভীতি ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১২ মিনিটে রক্ষণভাগে বড় ভুল করে বসে মেক্সিকো। ডিফেন্স থেকে বল বের করতে গিয়ে গুরুতর ভুল করেন জোহান ভাসকুয়েজ। সুযোগটি কাজে লাগাতে তুমুল চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন ফ্রান্সিসকো কোনসেইসাও। গোল হওয়া থেকে মেক্সিকোকে বাঁচান গোলকিপার রাউল র্যাঙ্গেল। যিনি রুখে দেন গোলটি। ১৪ মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া করে পর্তুগাল। কর্নার থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসজ বল বাড়ানোর পর বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ে শট নেন জোয়াও ফেলিক্স। তবে তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৭ মিনিটে ক্লিয়ার সুযোগ গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল। দারুণ দলগত আক্রমণ গড়ে তোলে দলটি। ফ্রান্সিসকো কোনসেইসাওয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেজ বক্সের ভেতর নিচু শট নেন। যা গিয়ে পড়ে গনসালো রামোসের কাছে। তবে তার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আবারও ভালো একটি সুযোগ অপচয় করে পর্তুগাল ৩৫ মিনিটে। দারুণ দলগত আক্রমণ গড়ে তোলে ব্রুনো ও ফেলিক্সের সমন্বয়ে। ফেলিক্স বক্সে ক্রস দেন গনসালো রামোসকে। কিন্তু তিনি ঠিকভাবে বলটি মারতে না পারায় সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই মিনিট যোগ করা হলেও দুই দলের কেউই কোনো গোলের দেখা পায়নি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৪৫ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে পর্তুগাল। বল দখল ও ছন্দে এগিয়ে থাকলেও তারাও গোলের দেখা পায়নি। বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে দুই দলই। প্রথমার্ধের শুরুর অংশটা পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এরপরও ৫৯ মিনিটে হ্যান্ডবলের কারণে চেজার মন্টেসের ভুলে ফ্রি-কিক পেয়ে বক্সে ক্রস দেন ব্রুনো। হেড দেন রেন্টাওও ভেইগা। কিন্তু তার প্রচেষ্টা বার ঘেঁষে অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ৬৬ মিনিট থেকে ম্যাচটি আর মোটেও প্রীতি ম্যাচের মতো মনে হচ্ছিল না। মেক্সিকো ও পর্তুগাল মাঠের খেলায় চাপ দিতে থাকে একে-অপরকে। কঠিন সব ট্যাকল আর খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মাঠজুড়ে। গ্যালারির দর্শকরাও দারুণভাবে পরিবেশ গরম করে রাখেন, যার ফলে পুরো ম্যাচে বিশ্বকাপের মতো আবহ তৈরি হয়েছে। ৮১ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তোলে মেক্সিকোর জার্মান বার্টারমে ও জুলিয়ান কুইনোনস। তাদের বাড়ানো ক্রস দূরের পোস্টে পৌঁছায় আরমান্দো গঞ্জালেসের কাছে। কিন্তু একদম ফাঁকা অবস্থায় থেকেও তিনি ঠিকভাবে হেড করতে পারেননি, ফলে বড় সুযোগটি নষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জাল খুঁজে না পেলেও ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আসরের অন্যতম ভেন্যু হিসেবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে এই ম্যাচের মাধ্যমে। আইএন