ঈদের তৃতীয় দিনেও জমজমাট শকুনি লেকপাড়
2026-03-23 - 06:50
ঈদের তৃতীয় দিনও মাদারীপুর শহরের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র শকুনি লেকপাড়ে মানুষের ঢল নেমেছে। জেলার ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত এই লেক। তাই ঈদকে ঘিরে শহরবাসীর পাশাপাশি উপজেলাজেলাসহ গ্রাম থেকেও মানুষজন একটু বিনোদনের জন্য পরিবার নিয়ে এই লেকপাড়ে ঘুরতে আসেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই যেন লেকপাড়টি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঈদের তৃতীয় দিনও লেকপাড়ে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সকাল হতেই লেকপাড়ে মানুষজন আসতে শুরু করেন। তবে দুপুরের পর থেকে মানুষজনের সমাগম বেড়ে যায়। শনিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত জনসমাগম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একসময় নগরায়ণের প্রয়োজনে এই লেকটি খনন করা হয়। বর্তমানে এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মানুষের মন কাড়ে। জেলার একমাত্র শিশুপার্কটি লেকপাড়ে হওয়ায় এখানে ছোট ছোট শিশুদের ভিড় দেখা যায়। লেকে ঘুরতে আসা রাকিব হাসান বলেন, ‘লেকপাড়ের রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের মান খুব ভালো। আসলে মাদারীপুরের সৌন্দর্য বলতে আমরা এই শকুনি লেককেই বুঝি। তাই এখানে ঈদের সময় মানুষের ঢল নামে।’ শিশুপার্কে ঘুরতে আসা ফাতেমা আক্তার তমা বলেন, ‘শিশুদের জন্য মাদারীপুর শহরে তেমন কিছু নেই। তাই শকুনি লেকপাড়ের এই শিশুপার্কে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ভালো লাগছে। শান্ত লেক দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে প্রমত্তা পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় যখন মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে, তখন নতুন করে শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজনে ১৯৪২-৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়। সেসময় এলাকাটি ছিল জনমানবহীন এবং বনজঙ্গলে ভরা নিম্নভূমি। নদীভাঙন কবলিত তৎকালীন মহকুমা শহরের কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, থানা, জেলখানাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো স্থানান্তরের জন্য এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়। কারণ সমতলে এসব স্থাপনা তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসন লেকটি খনন করে মাটির চাহিদা পূরণ করে। মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক ও লেখক সুবল বিশ্বাস জানান, চল্লিশ দশকে প্রচুর মাটির প্রয়োজনে বিশাল এই লেকটি খনন করতে বহু সংখ্যক মাটিকাটা শ্রমিক দরকার হয়। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এ অঞ্চলে না থাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সময় ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দুই হাজার মাটিকাটা শ্রমিক আনা হয়। লেক খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় উড়িয়ার মি. নাঞ্জিপুঞ্জি নামের এক আদিবাসীকে। তার তত্তাবধানে ভারতের ওই দুই রাজ্য থেকে আসা দুই হাজার শ্রমিক ২০ একর জায়গার মাটি কেটে লেক খনন শুরু করেন। প্রায় ৯ মাসে লেকের খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়। আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/জেআইএম