TheBangladeshTime

উচ্চ খেলাপির কারণে লভ্যাংশ দিতে পারবে না অর্ধেক ব্যাংক

2026-03-18 - 18:40

‘খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে মুনাফা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না’—বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নীতিমালার কারণে চলতি বছরে প্রায় অর্ধেক ব্যাংক লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। গত ডিসেম্বর শেষে সরকারি-বেসরকারি ২৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কে রয়েছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্তত ১৭টি ব্যাংক শুধু উচ্চ খেলাপির কারণেই লভ্যাংশ দিতে পারবে না। ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্ত করতে গত বছরের ১৩ মার্চ ‘শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার নীতিমালা’ জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না। এছাড়া প্রভিশন ঘাটতি, সিআরআর বা এসএলআর ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। লভ্যাংশ কেবল চলতি বছরের নিট মুনাফা থেকে দেওয়া যাবে; পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে নয়। সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ বা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসে। গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৬ শতাংশে উঠলেও আদায় জোরদার ও পুনঃতফশিল সুবিধার কারণে ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে ৬১টি তফশিলি ব্যাংক রয়েছে, এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে তালিকাভুক্ত একমাত্র রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ। বেসরকারি খাতে পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯৬ দশমিক ৪৩, গ্লোবাল ইসলামী ৯৬ দশমিক ২৭, এসআইবিএল ৮০ দশমিক ৩৮ এবং এক্সিম ব্যাংক ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের অনেক ওপরে রয়েছে। আর উচ্চ খেলাপির এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। ইএআর/এমএমকে

Share this post: