TheBangladeshTime

কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

2026-03-09 - 08:54

বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে ‘ভ্যালু ফর মানি’-তে জোর দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার নীতিগত পরিকল্পনাগুলোকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে কাজ করছে। একইসঙ্গে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন নীতি এরইমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও এই পরিস্থিতির অভিঘাতের মুখে পড়েছি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায় এবং সম্ভাব্য সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়- সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত জানাবে। জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়নের সুফল যেন কেবল অবকাঠামো বা সীমিত কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে সেই লক্ষ্যেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সেই বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা, অপচয় কমানো এবং বিনিয়োগ থেকে যথাযথ রিটার্ন পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার খরচ কমানো, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বাড়ানো এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে নতুন খাত ও নতুন বাজার তৈরি হবে, যা অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং জনগণের আয় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাইজেশন, কর ফাঁকি ও লিকেজ বন্ধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতি একসময় খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে অর্থনীতিকে আবার গতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে এনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। সব স্টেকহোল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনীতির পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ইএআর/এএমএ

Share this post: