আওয়ামী লীগ সরকার তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রেখেছিল
2026-03-08 - 10:44
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি। হয়তোবা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো চর্চাটাই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। গোপনীয়তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণীত হতে দেখেছি আমরা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার পরোয়া না করে। সেই সরকার তথ্য কমিশনকে দেড় বছর প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকার পরও তথ্য কমিশন গঠন না হওয়া বিব্রতকর। ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতা রয়েছে যেসব দেশের, তাদের জন্য গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে উন্মুক্ততার সংস্কৃতিতে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে চোরতন্ত্রের রাষ্ট্রশাসনে তথ্য অধিকার কমিশনকে অন্য কমিশনগুলোর মতো অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তাদের সেসময়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তথ্য কমিশন গঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- দলীয় প্রভাবমুক্ত ও যোগ্যদের নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন; অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত তথ্য অধিকার অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পেশ করার আগে তথ্য অধিকার ফোরাম প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বিবেচনা করা এবং আবার জনমত গ্রহণের জন্য প্রচার করা। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম। এতে আরও বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক শ্রমবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)–এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন। এসএম/ইএ