১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ ফয়সাল ও আলমগীরকে
2026-03-22 - 10:51
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার অন্যতম দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত (জেল হাজত) নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালত। রোববার (২২ মার্চ) তাদের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে এই আদেশ দেন বিচারক। আগামী ২ এপ্রিল ফয়সাল ও আলমগীরকে ফের আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আগেই ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় (অবৈধ অনুপ্রবেশ) মামলা দায়ের করা ছিল। এদিন নতুন করে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) পক্ষ থেকে কারাগারে গিয়ে অভিযুক্তদের জেরা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তাতে সম্মতি দিয়েছেন বিচারক। আরও পড়ুন>> হাদি তো জামায়াতের প্রোডাক্ট: ফয়সাল হাদি হত্যাকাণ্ড জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে, দাবি ফয়সালের হাদিকে গুলি করা প্রসঙ্গে যা বললেন ফয়সাল এদিন আদালত থেকে বের হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ফয়সাল। এ সময় হাদি হত্যা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল বলেন, আমি এই কাজ করিনি। এটি জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে। তবে জামায়াতের কে এর সঙ্গে জড়িত এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সেটা আমি জানি না। ফয়সাল আরও বলেন, আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে, হাদি তো জামায়াতের প্রোডাক্ট। হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি বাংলাদেশে ছিলেন কি না, এর উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ ছিলাম। এসময় সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে ফয়সাল দাবি করেন, তাকে গুলি করতে দেখা যায়নি। তাহলে গুলি কে করলো- এর উত্তরে তিনি বলেন, সেটা আমি জানি না। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না হলে ভারতে পালিয়ে এসেছেন কেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি হাদি হত্যা মামলার এই আসামি। গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। তাদের গ্রেফতারের পর এসটিএফ সূত্র জানিয়েছিল, ফয়সাল ও আলমগীর দুজনই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ও গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এদিকে, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এ দুই আসামিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করায় গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার ফিলিপকে আদালতে তোলা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডিডি/কেএএ/