হরমুজ প্রণালি বন্ধে ভারতে সমুচা-চায়ের স্বাদেও প্রভাব
2026-03-18 - 08:51
ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়—ভারতের জনপ্রিয় খাবার সমুচা ও চায়ের ওপরও পড়েছে। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি ভারত। দেশটি রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সরকার গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য এলপিজি অগ্রাধিকার দিয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্টুরেন্ট ও স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা বাধ্য হয়ে মেন্যু কমিয়ে দিচ্ছেন। কিছু জায়গায় সমুচা বিক্রি বন্ধ, চাতে (চাই) আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ অনেক রান্না এখন ইন্ডাকশন চুলায় করা হচ্ছে। জয়পুরের এক রেস্টুরেন্ট মালিক জানিয়েছেন, তাদের জনপ্রিয় সমুচা ও বান-বাটার এখন আর পরিবেশন করা যাচ্ছে না, যা গ্রাহকদের হতাশ করছে। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রান্নায় খোলা আগুনের উচ্চ তাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাসের আগুনে রান্না করা কারি ও তন্দুরি খাবারে আলাদা স্বাদ আসে। সমুচা তৈরিতে প্রয়োজন দীর্ঘসময় উচ্চ তাপে ভাজা। ইন্ডাকশন চুলায় সেই স্বাদ ও টেক্সচার পাওয়া যায় না। কিছু রেস্টুরেন্ট ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার শুরু করেছে, আবার কেউ কেউ কাঠের আগুন ব্যবহারের কথা ভাবছে। তবে পরিবেশগত কারণে তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এলপিজি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অস্থির—গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে। অনলাইনে ইন্ডাকশন চুলার বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে হরমুজ প্রণালীর এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, ভারতের খাদ্য সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনযাপনেও এর গভীর প্রভাব পড়বে। সূত্র: সিএনএন এমএসএম