প্রভাবশালী অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত, শিগগির দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
2026-03-04 - 08:04
হঠাৎই বেড়ে গেলো খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনা। গেলো ফেব্রুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সন্ত্রাস, মাদক, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতনরা বলছেন, প্রস্তুত করা হচ্ছে অপরাধীদের তালিকা, শিগগির দেশ্যবাপী শুরু হবে ‘বিশেষ অভিযান’। ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বাড়ির পেছনের খালপাড় থেকে ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি করা হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ি। এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রায় দু’মাস আগে একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছিল। ওই ব্যবসায়ীর বাসায় পুলিশ প্রহরাও দিয়েছে। সেই সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা পায়নি। দু ‘মাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। হেভি উইপেনসহ গোলাগুলি করে। সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের ধরতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। গত ১ মার্চ রাতের ঘটনা। খুলনার বাগমারার জাহিদুর রহমান সড়কে আব্দুল আজিজ নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাত ৯টায় মোটরসাইকেলে এসে দুজন দুর্বৃত্ত প্রথমে তাকে গুলি করে, তারপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর রাত ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজ মারা যান। এর একদিন আগে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা খান মুরাদকে। হাটের সরকারি ইজারার টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন এ ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কার হন এবং তাকে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে দাদিকে হত্যা এবং নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির সামনে রাস্তায় বের হন। তবে কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। সকালে বাড়ির উঠানে দাদির রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় নাতনিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে মেয়েটির বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের এক স্বজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার যুবক ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব বর্বর ঘটনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধের ঊর্ধ্বগতি বন্ধে আরও দৃঢ় ও তৎপর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনমনে স্বস্তি দেওয়া এবং একই সঙ্গে অপরাধীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তবে সরকার বলছে, রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা আসে, মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নরসিংদীতে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়, আমরা বলেছি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে, গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দু-তিনটি এমন হয়েছে সবগুলো আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, বর্তমান সরকার যেকোনো অপরাধীদের ক্ষেত্রে কঠোর। রাজনৈতিক দলের ছত্র-ছায়ায় থেকে কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন অপরাধ করে তারা অনেক সময় ক্ষমতা দেখিয়ে পার পেয়ে যান। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে শিগগির অভিযানে নামছে। যেভাবে চলবে অভিযান দেশজুড়ে শীর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে এই বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একাধিক বিশেষ টিম কাজ শুরু করবে। বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা প্রস্তুতের পর দেশজুড়ে অভিযান চালাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী অপরাধীরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আইনের নাগালের বাইরে থাকে। তাদের বিরুদ্ধেই এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। এরইমধ্যে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা নজরদারির আওতায় রয়েছেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে অপরাধ কমে আসবে। কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করে সামাজিকভাবে অপরাধীদের বিচার করার ওপরও জোর দেন তারা। চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে শিশুকে হত্যা গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধার থেকে শিশুটিকে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা উদ্ধার করেন। প্রথমে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা শুরু থেকে এটিকে ধর্ষণচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। দুই দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি বাবু শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করবো এমন হুমকি, যুবদল নেতা গ্রেফতার রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা দখলচেষ্টার অভিযোগে জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে র্যাবের একটি দল। মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় তামজিদুরকে র্যাব গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফিড অপারেটর হিসেবে ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগরের কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত কেবল ও ওয়াইফাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে। এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে অবস্থানের একপর্যায়ে যুবদল নেতা আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপক মাহাদি হাসানকে মোবাইলে কল করে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আকিবুল বলেন, লাইনের কী সমাধান করবেন। তুই (মাহাদি হাসান) আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসবো। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসবো। ওসির সামনে চাঁদা দাবি করা সেই যুবদল নেতা গ্রেফতার নাটোরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সামনে চাঁদা দাবি করা যুবদল নেতা রাকিবুর রহমানকে (রাজা) গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলার তুলাধুনা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে ভুক্তভোগী ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, ভুক্তভোগী প্রথমে মামলা করতে না চাওয়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত রাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এক মাসে ১৪ হাজার মামলা পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত ১৪হাজার ৫৮টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলা হয়েছে ২৮৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১২৮১টি, অপহরণের ঘটনায় ৮৭টি, চুরির ঘটনায় ৮২৮টি, অস্ত্র আইনে ২৬৯টি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৯২২টি। দেশের ৮টি রেঞ্জের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জে ৭৩টি, চটগ্রাম রেঞ্জে হত্যা মামলা হয়েছে ৫৬টি। আর রাজধানী ঢাকায় হত্যা মামলা হয়েছে ২১টি। গুটিকয়েক লোকের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাস, সামাজিক হানাহানি, মারামারি সবকিছুর জন্য নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ গুটিকয়েক অসাধু লোকের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিক ও কঠোর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনা কি ঘটবে তার আগে তো আমরা গণক নই যে জানবো। ঘটনা ঘটার পরে আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি কি না সেটিই দেখার বিষয়। আমরা সেটা জনগণকে দেখাতে পেরেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক, কতটা কঠোর; আশা করি জনগণ এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে। ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্ব আমাদের, ইনভেস্টিগেশনের মধ্য দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। বিচারকরা বিচার করবেন স্বাধীনভাবে আমরা আমাদের তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগির বড় অভিযান শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক আইজিপি নুরুল হুদাও। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলায় চ্যালেঞ্জ থাকে। জেলা পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযানে নামতে পারে পুলিশ। এছাড়া লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরালো দরকার। অপরাধীদের বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, যারা ক্রিমিনাল তারা রাজনৈতিক দলের হয়ে নেতৃত্ব দেয় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তৃতায় তার মেসেজ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার রয়েছে। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিরা গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন পর জামিনে এসে আবার একই অপরাধ করে। এ প্রশ্নে আইজিপি বলেন, এলাকাভিত্তিক তালিকা থাকবে। জামিনে আসার পর প্রতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে হাজিরা দেবে। এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। রাজনৈতিক পরিচয় বা অর্থনৈতিক প্রভাব অপরাধীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আইনের কঠোর ও কার্যকর প্রয়োগ। তবে এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অনেক সময় অপরাধকে সহনীয় বা স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে অপরাধীদের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা জন্মেছে যে, অপরাধ করেও তারা পার পেয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ বিলম্বিত হয়, যা বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী যদি প্রান্তিক বা দুর্বল অবস্থানের কেউ হন, তাহলে আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে তিনি নানামুখী হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে অর্থের প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে মামলা করা বা আইনের আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়। শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই যথেষ্ট নয়, যারা অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বা প্রভাব খাটিয়ে বিচারের পথ রুদ্ধ করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টিটি/এসএনআর