TheBangladeshTime

ধ্বংসস্তূপে চাপা ঈদ আনন্দ, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাহাকার আর অনিশ্চয়তা

2026-03-20 - 10:51

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে আজ বারুদের গন্ধ। যে সময়ে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠার কথা ছিল, সেই সময়ে লেবানন থেকে ফিলিস্তিন, কিংবা ইরান—সবখানেই চলছে বাঁচার লড়াই। শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এবারের ঈদুল ফিতর এ অঞ্চলের মানুষের কাছে আনন্দ নয়, বরং টিকে থাকার এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেবানন: খোলা আকাশের নিচে ঈদ বৈরুতের অভিজাত এলাকাগুলো এখন আর রেস্তোরাঁ বা বারের জন্য পরিচিত নয়, বরং বাস্তুচ্যুত মানুষের ‘তাবুর নগরীতে’ পরিণত হয়েছে। গোলান উপত্যকা থেকে আসা সিরীয় শরণার্থী আলা, থাকতেন দক্ষিণ লেবাননের দাহিয়ে শহরে। কিন্তু ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে তার। আলা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঈদের কোনো পরিকল্পনা নেই, আমার এখন একটা তাবু দরকার।’ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজা: ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঈদ উৎসব গাজায় ইসরায়েলি বিধিনিষেধ ও আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের কারণে ঈদের আনন্দ এবারও ফিকে। গাজা সিটির ৬২ বছর বয়সী খালেদ দীব জানান, একসময় তিনি তার মেয়েদের ঈদে হাজার ডলারের উপহার দিতেন, অথচ আজ ফল কেনারও সামর্থ্য নেই। তার মতে, বর্তমান বাজারে ফল কেনা এখন কেবল ‘রাজাদের’ পক্ষেই সম্ভব। তিন সন্তানের মা শিরিন শরীমের কণ্ঠেও একই হাহাকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের আনন্দ আজ অপূর্ণ। দুই বছরের যুদ্ধ আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে।’ প্লাস্টিক আর কাঠের তাবু টানিয়ে কোনোমতে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কাছে ঈদের চাঁদ আজ শুধুই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি। ইরান: অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তার আতঙ্ক ইরানে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার কারণে সাধারণ মানুষ বাজারে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ঈদের কেনাকাটা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা। এ বছর পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ এবং ঈদ একই দিনে হওয়ায় রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট। সরকারবিরোধীদের অনেকেই ধর্মীয় উৎসব এড়িয়ে কেবল নওরোজ পালনেই মনোযোগী। সংহতির শক্তি এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার আলো খুঁজছেন কেউ কেউ। তাদেরই একজন বৈরুতের রাজনৈতিক গবেষক করিম সাফিয়েদিন। তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত হলেও আমরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবো। এই সাম্প্রদায়িক সংহতিই আমাদের যুদ্ধের মধ্যে টিকে থাকার শক্তি জোগাবে।’ সূত্র: আল-জাজিরা কেএএ/

Share this post: