TheBangladeshTime

মিশরে বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার শিক্ষার্থীর ইফতার

2026-02-23 - 03:33

প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ মিশরের বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এদের মধ্যে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। রমজান মাসে তাদের অনেকেরই পছন্দের ইফতারস্থল ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ বছর টোকেনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য মসজিদে ইফতারের আয়োজন করা হয়। আসরের আজান ঘনিয়ে এলেই দলে দলে শিক্ষার্থীরা মসজিদের পূর্ব পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। গেটের বাইরে আল-আজহারে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করে দেওয়া হয় অনুমতি টোকেন। সেই টোকেন নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে নির্ধারিত নিয়মে ইফতারে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। সুউচ্চ মিনার বেষ্টিত প্রাচীন এই মসজিদের অভ্যন্তরের বিরাজ করে প্রশান্ত এক পরিবেশ। চারপাশের কাঠের বিভাজিত অংশে নারী শিক্ষার্থীরা ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। মাঝখানের সাদা টাইলস করা খোলা উঠানে নামাজ শেষে কেউ কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন, কেউবা তাসবিহ পাঠে ব্যস্ত—সব মিলিয়ে এক অনুপম আধ্যাত্মিক দৃশ্য। ইফতারের আয়োজন পরিচালিত হয় আল-আজহারের আন্ডার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মাদ আল-দুওয়াইনি-র তত্ত্বাবধানে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিঃশব্দে ইফতারের সামগ্রী সাজিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। মাগরিবের আজানের প্রায় ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের ইফতার সামনে নিয়ে বসতে বলা হয়। আজানের পূর্ব মুহূর্তে একজন ক্বারী সুমিষ্ট সুরে কোরআন তেলাওয়াত করেন। আজান ধ্বনিত হতেই খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, এরপরই সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে যান। নামাজ শেষে পরিবেশিত হয় বাকি খাবার। ইফতারের মেন্যুতে থাকে মিশরের ঐতিহ্যবাহী নানা পদ-খেজুর, জুস, ভাত, ‘ঈশ বালাদি’ (স্থানীয় রুটি), ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, কোপ্তা, সবজি ও মিশরীয় মিষ্টান্ন। আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেরপুরের আবু সাওবান আকন্দ বলেন, মাতৃভূমি, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে বিদেশের মাটিতে রমজান কাটাচ্ছি। সেহরি ও ইফতারের সময় পরিবারকে খুব মনে পড়ে, বিশেষ করে দেশীয় ইফতার আইটেমগুলোর কথা। তিনি আরও বলেন, তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একত্রে ইফতার করার অনুভূতিই আলাদা। এই মহতি উদ্যোগের জন্য আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক মোবারকবাদ। রমজানের এই সম্মিলিত ইফতার আয়োজন শুধু খাদ্য ভাগাভাগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিশ্বজুড়ে আগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এমআরএম

Share this post: