ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে বিপাকে বড় শিল্পগ্রুপগুলো
2026-03-18 - 14:31
সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করলেও বাস্তবতা এখনো ভিন্ন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী বড় শিল্পগ্রুপগুলো অনুমতি থাকার পরও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না ডিপো থেকে। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে। জ্বালানি তেল সাধারণত পেট্রোল পাম্প থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দেশের বড় বড় গ্রুপের বিষয়টি আলাদা। যাদের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দরকার হয় তারা সরকারের অনুমোদন ক্রমে সরাসরি ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কিনতে পারে। প্রথমে জ্বালানি সংকট ও পরবর্তীসময়ে সীমা তুলে দিয়ে স্বাভাবিক বললেও এসব বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে না। চলমান জ্বালানি সংকট ভালোই বিপাকে ফেলেছে শিল্পগ্রুপগুলোকে। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক বিঘ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। ডিপো থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়া এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করার সমস্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে।-প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেশেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বেশি পরিমাণে তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জমছে ভিড়। এ অবস্থায় গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যদিও পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের শীর্ষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, তারা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না। এই সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও ফেলছে প্রভাব। ফলে পণ্যের সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে, যা ভোক্তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি সৃষ্টি করবে। তিনি সতর্ক করে আরও জানান, এই পরিস্থিতি ঈদের সময় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন ও জেনারেটর চালু রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সংকট নেই। সরাসরি কাস্টমার হিসেবে তেল পাচ্ছে। ওদের (ডিপো) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আমরা তাদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।-বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ আকিজ রিসোর্স গ্রুপের চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌফিক হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিপো থেকেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন কার্যক্রমে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরবরাহসূচিতে দেখা দিচ্ছে বিলম্ব, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে।’ আরও পড়ুন ‘ইন্ডাস্ট্রিকে অবশ্যই চাহিদামতো ফুয়েল সাপ্লাই দিতে হবে’ জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে উৎপাদন, প্রয়োজন শিল্প খাতে অগ্রাধিকার জ্বালানি সংকটের চাপ পণ্য সরবরাহে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘ডিপো থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়া এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করার সমস্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা বড় করপোরেট লাইসেন্সধারী এবং যাদের বিপুল পরিমাণে তেল প্রয়োজন, তাদের পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। সরকারের ঘোষণার পরও এ সংকট কাটেনি। কোনো উন্নতি হয়নি। কিছু পাম্পে হয়তো রেশনিংয়ে তেল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’ ঈদ ও রোজার সময় খাদ্যপণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, ব্রেড এবং অন্য জরুরি পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জসহ অন্য ডিপো এলাকায় এ সংকট আরও তীব্র। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাচ্ছি, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিরাট প্রভাব ফেলছে।’ সার্বিকভাবে পণ্য পৌঁছানোর সময় ও নির্ধারিত সূচি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাদের মতে, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সঠিকভাবে জ্বালানি পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানির অভাবে যাতে কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংকট নেই। সরাসরি কাস্টমার হিসেবে তেল পাচ্ছে। ওদের (ডিপো) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আমরা তাদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।’ আইএইচও/এএসএ/এমএফএ