বিট লবণ নাকি সাদা লবণ,কোনটি বেশি স্বাস্থ্যসম্মত?
2026-03-05 - 03:04
রোজায় মুড়ি মাখা, ফলের চাট বা বিভিন্ন ভর্তায় অনেকেই বিট লবণ ব্যবহার করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওজন কমানো, হজমশক্তি বাড়ানো কিংবা ‘ডিটক্স’-এর নামে বিট লবণ খাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। অনেকের ধারণা, সাধারণ সাদা লবণের তুলনায় বিট লবণ নাকি বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু সত্যিই কি তাই, নাকি এটি কেবল নতুন এক খাদ্য ট্রেন্ড? পুষ্টিবিদদের মতে, প্রথমেই জানতে হবে সাদা লবণ ও বিট লবণের মৌলিক পার্থক্য। বাজারে যে সাদা লবণ পাওয়া যায়, তা মূলত পরিশোধিত সোডিয়াম ক্লোরাইড। এতে প্রায় ৯৯ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে আয়োডিন মেশানো হয়, যাতে আয়োডিনের ঘাটতি থেকে সৃষ্ট থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি কমে। অন্যদিকে বিট লবণ বা ‘ব্ল্যাক সল্ট’ সাধারণত হিমালয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। এতে সালফার যৌগের উপস্থিতির কারণে আলাদা গন্ধ ও স্বাদ থাকে। এই সালফার উপাদানই বিট লবণকে স্বতন্ত্র করে। আয়ুর্বেদে বিট লবণকে হজমে সহায়ক বলা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি গ্যাস, অম্বল বা হালকা হজমের সমস্যায় কিছুটা উপকার দেয়। তাই অনেকে নিয়মিত খাবারের সঙ্গে বা ফলের উপর ছড়িয়ে এটি খান। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, দু’ধরনের লবণের মূল উপাদানই সোডিয়াম। আর অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যে ক্ষতি সাধারণ লবণ অতিরিক্ত খেলে হয়, বিট লবণ খেলেও একই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা এবং স্ট্রোকের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের সম্পর্ক বহু গবেষণায় প্রমাণিত। যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই এ ধরনের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নির্দিষ্ট পরিমাণে লবণ গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে লো-সোডিয়াম লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেটিও সীমিত পরিমাণে। শুধু লবণের ধরন বদলালেই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘কাঁচা লবণ’ খাওয়ার অভ্যাস। অনেকেই ফল, সালাদ বা তরকারির ওপর অতিরিক্ত লবণ ছড়িয়ে খান। এই অতিরিক্ত কাঁচা লবণই দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ দিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ গ্রাম লবণ গ্রহণ করতে পারেন, এবং তা রান্নার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। আলাদা করে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। বিট লবণ হোক বা সাদা লবণ-মূল বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস মানে কোনো একটি উপাদানকে ‘সুপারফুড’ ভাবা নয়, বরং পরিমিতি বজায় রাখা। সচেতনভাবে কম লবণ খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকা যায়। সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও পড়ুন: ফাইবার চাইলে বেছে নেবেন কোন ফল ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এসএকেওয়াই