স্বাস্থ্যকর ভেবে বেশি ড্রাই ফ্রুটস খেলেই বিপদ
2026-03-06 - 03:03
ডায়েট বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে ড্রাই ফ্রুটসের কথা। বাদাম, কিশমিশ, খেজুর-এসব খাবারকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর নাস্তা হিসেবে নিয়মিত খেয়ে থাকেন। অনেকেই ভাবেন, ড্রাই ফ্রুটস যেহেতু পুষ্টিকর, তাই যত বেশি খাওয়া যাবে ততই ভালো। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও ড্রাই ফ্রুটস অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য তা ক্ষতিকরও হয়ে উঠতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ড্রাই ফ্রুটসে ক্যালরির পরিমাণ বেশ বেশি থাকে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করে খেলে তা শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করতে পারে। ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার উপকারিতা ড্রাই ফ্রুটস মূলত শুকিয়ে সংরক্ষণ করা ফল। ড্রাই ফ্রুটসে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বাদামে থাকে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। কিশমিশ ও খেজুর থেকে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। পানি কমে যাওয়ায় এগুলো দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। দিনের ক্লান্তি দূর করতে বা হালকা ক্ষুধা মেটাতে ড্রাই ফ্রুট ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ড্রাই ফ্রুট খেলে শরীর শক্তি পায় এবং পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়। অতিরিক্ত ড্রাই ফ্রুটসে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাদাম, খেজুর ও কিশমিশে ফ্যাট এবং প্রাকৃতিক চিনি থাকে। ফলে এগুলো অতিরিক্ত খেলে শরীরে মেদের পরিমাণ বাড়তে পারে। ড্রাই ফ্রুটে ক্যালরি অনেক বেশি থাকায় বেশি খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যদি এগুলো কৃত্রিমভাবে মিষ্টি করা থাকে, তাহলে ক্যালরির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এছাড়া অনেকেই ড্রাই ফ্রুটের সঙ্গে মধু, সিরাপ বা বিভিন্ন মিষ্টান্ন মিশিয়ে খান। এতে একসঙ্গে অনেক বেশি ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোলেস্টেরল ও লিভারের সমস্যার আশঙ্কা বাদামে সাধারণত ভালো ফ্যাট থাকে, যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে উল্টো ফলও হতে পারে। তখন শরীরে ফ্যাটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার ফলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন মুঠো মুঠো ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। কীভাবে ড্রাই ফ্রুটস খাবেন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে ড্রাই ফ্রুটস পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তাজা ফলের মতো বড় পরিমাণে এগুলো খাওয়া উচিত নয়। সাধারণভাবে এক চাচামচ বা ছোট এক মুঠো ড্রাই ফ্রুটসই যথেষ্ট। খাওয়ার সময় বাড়তি চিনি, সিরাপ বা মধু না যোগ করাই ভালো। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেলে স্বাদও ভালোভাবে উপভোগ করা যায় এবং শরীরও সহজে হজম করতে পারে। কারা বেশি সাবধান থাকবেন যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ড্রাই ফ্রুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ পরিমাণ ঠিক না রাখলে এসব সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ড্রাই ফ্রুটস স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এর সঠিক পরিমাণ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনভাবে খেলে ড্রাই ফ্রুটস শরীরের উপকার করে, আর অতিরিক্ত খেলে তা উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, হেলথলাইন আরও পড়ুন: ফাইবার চাইলে বেছে নেবেন কোন ফল ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এসএকেওয়াই