ব্রহ্মপুত্রের তীরে ‘অষ্টমী স্নান’ ভক্তদের ঢল
2026-03-26 - 10:01
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘অষ্টমী স্নান’ ও মেলা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই ধর্মীয় আয়োজন চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে প্রতিবছরের মতো এবারও পালিত হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, অষ্টমী তিথি শুরু হয় বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে। শেষ হয় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে। নির্দিষ্ট সময়ের পাশাপাশি ভোর থেকে দিনভর বিভিন্ন সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্রের পানিতে স্নান সম্পন্ন করেন। অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে জোড়গাছ পুরাতন বাজার, নতুন বাজার, মাঝিপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, গুড়াতিপাড়া, বাঁধের মোড় ও চিলমারী বন্দরসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, এবার তিন লাখেরও বেশি পুণ্যার্থী ধর্মীয় এ আয়োজনে অংশ নেন। কয়েকদিন আগেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তীর্থযাত্রীরা চিলমারীতে এসে সমবেত হন। অনেকে নদীর তীরে রাতযাপন করে ভোরের পবিত্র স্নানের অপেক্ষায় থাকেন। স্নান উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৫টি স্থানে ৫০টি পোশাক পরিবর্তন বুথ, ৩০টি টিউবওয়েল ও ৩০টি টয়লেট স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত স্নানঘাট হিসেবে রমনা ঘাট, বলাবাড়ি হাট, রানিগঞ্জ হাট ও ফকিরের হাট নির্ধারণ করা হয়, যাতে ভক্তরা শৃঙ্খলার সঙ্গে স্নান করতে পারেন। নিরাপত্তা জোরদারে আইনশঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল। সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় পুরো এলাকা মনিটরিং করা হয় এবং দুজন ডুবুরি প্রস্তুত রাখা হয়। প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবক ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। স্নানে অংশ নেওয়া কল্পনা রানি বলেন, ‘এবারের ব্যবস্থাপনা খুব ভালো ছিল। বিশেষ করে নারীদের জন্য পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে স্নান করতে পেরেছি।’ রংপুরের তাজহাট থেকে আসা লাবনী রায় ও শ্রাবণী রানি বলেন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ খুব ভালো ছিল। আগের মতো যানজট হয়নি। রংপুরের চৌধুরানী এলাকার ৭০ বছর বয়সী রমেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘শৈশব থেকে এই স্নানে অংশ নিচ্ছি। পবিত্র এই দিনে স্নান করলে আত্মিক শান্তি অনুভব করি। ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাই।’ পুরোহিত কানাই চক্রবর্তী জানান, তিন শতাধিক পুরোহিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ভক্তরা পূজা-অর্চনা, পিণ্ডদানসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন। চিলমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সচীন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন। এটি আমাদের অঞ্চলের শতবর্ষী ঐতিহ্য, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং সবার সহযোগিতায় অষ্টমী স্নান শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোকনুজ্জামান মানু/এসআর/এমএস