TheBangladeshTime

মেহেরপুরে কেনাকাটার ধুম, নতুন অর্ডার বন্ধ দর্জিবাড়িতে

2026-03-07 - 07:24

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে মেহেরপুর শহরের পোশাকের বাজার। শনিবার (৭ মার্চ) সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সকাল থেকেই মেহেরপুর শহরের বড় বাজার ও হোটেল বাজার এলাকার কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে অতিরিক্ত কাজের চাপে ভালো মানের কোনো দর্জির দোকানেই আর অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার ছুটির দিনেও অধিকাংশ দোকানপাট খোলা রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই। এমন অবস্থায় স্তূপ করা কাপড়ের মাঝ থেকে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। মেহেরপুর শহরের বড় বাজার এলাকায় অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের দোকান ‘আগারগাঁও বস্ত্রালয়’য়ে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহন কুমার চৌধুরী জানান, সাধারণ সময় শনিবারে তেমন ক্রেতা থাকে না। কিন্তু ঈদের কেনাকাটা শুরু হওয়ায় এখন বাজারে বেশ জমজমাট পরিবেশ। তিনি বলেন, এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজের। পাশাপাশি সিল্ক, সুতি, ওরগেন্ডি ও টিস্যু কাপড়ের তৈরি পোশাকও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রে লন কাপড়ের সালোয়ার-কামিজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এবারের ঈদে নারীদের পোশাক নির্বাচনে আভিজাত্য ও আরামের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। সুতি ও ভয়েল কাপড়ের ওপর তৈরি পাকিস্তানি ও ভারতীয় লন সেটের প্রতি নারীদের আগ্রহ বেশি। ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে হালকা নীল, গোলাপি ও মিন্ট গ্রিন রঙের প্যাস্টেল শেডের আনারকলি স্যুট। এছাড়া আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি শারারা ও গারারা সেটের প্রতিও তরুণীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে আরামদায়ক পোশাক হিসেবে স্ট্রেইট কাট সিল্ক স্যুট বা কুর্তার সঙ্গে চওড়া পালাজ্জো প্যান্টও বেশ জনপ্রিয়। গরমের কারণে সুতি কাপড়ের ফ্লোরাল প্রিন্ট ও আধুনিক কাটের কো-অর্ড সেটের ব্যবহারও এবার বেড়েছে। পুরুষদের পোশাকের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। তরুণদের মাঝে ড্রপ শোল্ডার ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও শার্টের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনতে অনেকেই বুটকাট প্যান্টের দিকে ঝুঁকছেন। তবে অনেক ক্রেতা এখনো ক্ল্যাসিক লুক বজায় রাখতে এমব্রয়ডারি করা সুতি পাঞ্জাবি, পাঠান স্যুট কিংবা হালকা কাজের শেরওয়ানি পছন্দ করছেন। অপরদিকে কাপড়ের দোকানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও দর্জিবাড়িগুলোতে চলছে তীব্র ব্যস্ততা। শহরের বড় বাজার এলাকার ক্যাশবপাড়ায় অবস্থিত ‘শাপলা টেইলার্স’ জেলার অন্যতম পরিচিত দর্জিবাড়ি। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাসেম মিয়া জানান, কাজের চাপে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণ অর্ডার নেওয়া হয়েছে, সেগুলোই ঈদের আগে শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করতে হয়েছে। এখন নতুন করে কোনো কাপড় নিলে ঈদের আগে পোশাক সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। অনেক ক্রেতাকে কাপড় হাতে নিয়ে এক টেইলার্স থেকে অন্য টেইলার্সে ঘুরতে দেখা গেছে। কিন্তু অধিকাংশ দর্জিই নতুন অর্ডার নিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। ফলে অনেকেই কাপড় কিনেও তা বানাতে না পারার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মেহেরপুর শহরের বাসিন্দা সোনিয়া শারমিন জাহান জানান, শ্বশুরবাড়ি, মামাবাড়ি ও বাবার বাড়ি থেকে মোট চারটি সালোয়ার-কামিজ পেয়েছেন। কিন্তু ভালো মানের কোনো দর্জি এখন নতুন অর্ডার নিচ্ছে না। ফলে নতুন পোশাক বানানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। দুপুরের পর থেকে শহরের বাজারগুলোতে ভিড় আরও বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মেহেরপুর শহরের প্রধান সড়কগুলো জনারণ্যে পরিণত হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতা আসমা খাতুন জানান, পরিবারের শিশুদের কাপড় কেনা শেষ করেছেন। এখন নিজের জন্য শাড়ি ও থ্রি-পিস দেখছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি দর্জিদের নতুন অর্ডার না নেওয়াটা বড় সমস্যায় ফেলেছে ক্রেতাদের। বড় বাজারের বিভিন্ন বস্ত্রবিতান ঘুরে জানা গেছে, মেয়েশিশুরা এবার বেশি পছন্দ করছে সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, টিউনিক, ঘাগরা-চোলি, ওয়ান-পিস, টু-পিস ও থ্রি-পিস স্যুট। এছাড়া সারারা, খাটো কামিজ, ফারসি এবং লেহেঙ্গা ধাঁচের স্কার্টও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আগে ফ্রক ও টিউনিকের চাহিদা বেশি থাকলেও এবার সালোয়ার-কামিজ ও ঘাঘরা-চোলির দিকেই ঝোঁক বেশি। অন্যদিকে ছেলেশিশুদের পোশাকে পাঞ্জাবি, পায়জামা, কাবলি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট ও ফতুয়ার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া হাফহাতা, ফুলহাতা ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টও কিনছেন অনেক অভিভাবক। ঈদের কেনাকাটা ঘিরে শহরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বড় বাজার ও হোটেল বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। মেহেরপুর বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু জানান, ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা সতর্ক রয়েছেন। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। এফএ/এএসএম

Share this post: