TheBangladeshTime

অভাব আর শারীরিক যন্ত্রণাও দমাতে পারেনি আমেনার ভোটাধিকার

2026-02-12 - 10:36

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন আমেনা বেগম। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। শারীরিক সমস্যার জন্য তিনি কুঁজো হয়ে হাঁটেন। আমিনা বেগম জানান, তিনি থাকেন শাজাহানপুর। শাজাহানপুর থেকে যাত্রাবাড়ীতে এসে ভোট দেওয়ার কারণও জানান। তিনি বলেন, আগে যাত্রাবাড়ীতে থাকতাম, এখানেই ভোটার হয়েছি। এখন আর এখানে থাকি না। কিন্তু ভোট তো দেওন লাগবো, তাই আইছি। তিনি বলেন, ‘এরশাদের আমলে একবার ভোট দিছি। এরপর আরেকবার দিছি খালেদা জিয়ার সময়। এখন ১৭ বছর পর ভোট দিলাম, আল্লাহ যারে পাস করানোর করবে। এটা আল্লাহর কুদরত। মানুষ তো উসিলা।’ ভোটের পরিবেশ কেমন জানতে চাইলে- আমেনা বেগম বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে, নীরব পরিবেশ, কোনো গ্যাঞ্জাম নেই, কিছু নাই। মানুষ মনে করছে অনেক বড় সিরিয়াল। আমারে একজনে বলেছে ভোট দিতে যাইতেছেন অনেক বড় সিরিয়াল। আমি বলছি যতই সিরিয়াল থাক আমি প্রতিবন্ধী মানুষ আমি সবার আগে গিয়ে ভোটটা দিয়ে আসব, ইনশাল্লাহ। ভোট দেওয়ার পরে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোনটা বাইর করছি।’ নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, আমার মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা। এছাড়া দুই পাশে ঘাঁ হয়েছে, এই ঘাঁ দুটি দিয়ে দীর্ঘদিন পুঁজ বের হয়। দেখানোর মতো হলে আমি আপনাকে দেহাইতাম।’ ‘অনেক বছর ধরে পুঁজ পড়ে, অনেক ডাক্তার দেখাইছি- কোনো কাজ হয় না। আরও বড় ডাক্তার দেখাতে হলে অনেক টাকা লাগে। আমি মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খাই, আমি এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা করবো কীভাবে? আমি কীভাবে বেঁচে আছি, এটা বললে আমার দেশের মানুষ দেখলে তো আমি নিজেই শরম পাব’ বলতে বলতেই আবেগে গলা ধরে আসে আমেনা বেগমের। তিনি জানান, স্বামী মারা গেছে ১৮ বছর আগে। কোনো সন্তান নেই। এর-ওর কাছে চেয়ে জীবন চালাচ্ছেন। ঢাকা-৫ আসনের অধীন শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মোট দুটি কেন্দ্র। এর মধ্যে পুরুষ কেন্দ্রের মোট ভোটার ২ হাজার ২৮৯ জন। মহিলা কেন্দ্রে ভোটার ৩ হাজার ৮০৯ জন। আরএমএম/এমআরএম

Share this post: