বিশ্ব যখন ইরানের দিকে তাকিয়ে, তখন ফিলিস্তিনে তাণ্ডব বাড়িয়েছে ইসরায়েল
2026-03-15 - 08:54
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের নজর এখন তেহরানের দিকে। কিন্তু এই সুযোগে অধিকৃত গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা, সামরিক অভিযান এবং সেটলারদের (অবৈধ বসতি স্থাপনকারী) তাণ্ডব এক মুহূর্তের জন্য থামেনি, বরং আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাজা উপত্যকা: মানবিক বিপর্যয়ের নতুন ধাপ সীমান্ত বন্ধ ও হাহাকার: ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই (১ মার্চ) ইসরায়েল মিশরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগস্থল রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মানবিক সহায়তা আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে কেনাকাটা: সীমান্ত বন্ধ হওয়ার খবরে গাজাবাসীর মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ মরিয়া হয়ে যা পাচ্ছে তা-ই কিনে মজুত করার চেষ্টা করছে। জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের সংকট: দীর্ঘদিনের অবরোধের ফলে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখন নেই বললেই চলে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ: মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, গাজায় অন্তঃসত্ত্বা ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত নারীরা ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না, যা তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আরও পড়ুন>> প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে টাকা না পাওয়ায় ইসরায়েলে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা ফিলিস্তিনের উপকার না হলে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ছাড়বে ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলের চেয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল মার্কিনিরা: জরিপ পশ্চিম তীর: সেটলারদের তাণ্ডব ও সামরিক কঠোরতা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ: ইরান থেকে পাল্টা হামলার আশঙ্কার অজুহাতে ইসরায়েলি বাহিনী পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে এবং জুমার নামাজ বাতিল করেছে। যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা: প্রায় ১০ দিন ধরে পশ্চিম তীরের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত নিষিদ্ধ করে লিফলেট বিলি করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেটলারদের সশস্ত্র হামলা: গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি সেটলাররা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে। মার্চের শুরুর দিকে কারিউত গ্রামে দুই ফিলিস্তিনি ভাইকে গুলি করে হত্যা করে তারা। হেবরন এবং রামাল্লায় সেটলারদের হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, বেথলেহেমের একটি পোল্ট্রি খামারে সেটলাররা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা কেএএ/