রমজানে মানসিক চাপ থেকে বাড়তে পারে ডায়াবেটিস
2026-03-07 - 12:14
রোজা, অফিস, পরিবার - সব মিলিয়ে রমজানে অনেকের সারাদিনের রুটিন পুরোপুরি বদলে যায়। রাত জেগে ইবাদত, ভোরে সেহরি, দিনের কাজ - শরীর ও মনের ওপর চাপ পড়ে। তবে চিন্তার বিষয় হলো, এই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার ওঠানামা বাড়িয়ে দিতে পারে। স্ট্রেস হলে শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় - যেমন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন। এই হরমোনগুলো লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে ছাড়তে পারে। ফলে ব্লাড সুগার সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। স্ট্রেস কেন ব্লাড সুগার বাড়ায় মানসিক চাপের সময় শরীর ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়। তখন কর্টিসল ও গ্লুকাগনের মতো হরমোন বাড়ে, যা লিভারকে আরও গ্লুকোজ রক্তে ছাড়তে সংকেত দেয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। রমজানে স্ট্রেস বাড়ার কারণ রমজানে ঘুমের সময় কমে যাওয়া, খাবারের সময়সূচি বদলে যাওয়া এবং কাজের চাপ - এসব কারণে অনেকের মানসিক চাপ বাড়ে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখেন, তাদের মধ্যে সুগার কমে যাওয়ার ভয়ও স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। স্ট্রেসের লক্ষণ কী হতে পারে স্ট্রেস বাড়লে অস্থিরতা, বিরক্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে অনেক সময় ব্লাড সুগারের রিডিংও ওঠানামা করতে পারে, যা রমজানে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা দরকার। রমজানে স্ট্রেস কমানোর উপায় ১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন ২. ইফতারের পর হালকা হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন ৩. গভীর শ্বাস বা ধ্যানের মতো রিল্যাক্সেশন অনুশীলন করুন ৪ .কাজের চাপ পরিকল্পনা করে ভাগ করে নিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষাও জরুরি স্ট্রেসের সময় রক্তে শর্করা অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়তে বা কমতে পারে। তাই রমজানে নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করলে শরীরের পরিবর্তন দ্রুত বোঝা যায় এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহজ হয়। তাই, রমজানে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, শারীরিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এএমপি/এমএস