TheBangladeshTime

শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য মা–বাবার যা জানা জরুরি

2026-03-09 - 06:14

শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক বছর তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এই সময়েই দ্রুত গতিতে গড়ে ওঠে মস্তিষ্কের কাঠামো। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে মস্তিষ্কে কোটি কোটি নিউরন সংযোগ তৈরি হয়। এই সংযোগগুলোই ভবিষ্যতে শিশুর শেখা, চিন্তা করা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং আচরণের ভিত্তি তৈরি করে। তাই ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিবেশ, ভালোবাসা ও যত্ন পেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ আরও সুস্থ ও শক্তিশালী হতে পারে। আজ (৯ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে মস্তিষ্ক সচেতনতা সপ্তাহ, এই উপলক্ষে মা-বাবাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ জেনে নিন - ১. ‘সার্ভ অ্যান্ড রিটার্ন’ যোগাযোগ গড়ে তুলুন শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ কেবল কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশু যখন শব্দ করে, হাসে বা ইশারা দেয় - তখন তার দিকে তাকিয়ে সাড়া দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, শিশু কিছু বলার চেষ্টা করলে তার দিকে তাকিয়ে হাসা বা কথা বলা। এই দ্বিমুখী যোগাযোগকে বিশেষজ্ঞরা ‘সার্ভ অ্যান্ড রিটার্ন’ বলেন। এটি শিশুর মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ২. খেলাধুলার সুযোগ দিন খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি শিশুর শেখার বড় মাধ্যম। ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা, ছবি আঁকা, পাজল মেলানো কিংবা লুকোচুরি খেলার মতো সাধারণ খেলাও শিশুর কল্পনাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। খেলতে খেলতেই শিশু নতুন কিছু শেখে এবং তার মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। ৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করুন শিশুর সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের জন্য ঘুম ও পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্য সাজিয়ে নেয় এবং স্মৃতি গঠনে কাজ করে। তাই বয়স অনুযায়ী শিশুর পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন, প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাছ, ডিম, বাদাম, শাকসবজি ও ফল শিশুদের খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। ৪. ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে সীমা রাখুন বর্তমানে অনেক শিশু খুব অল্প বয়সেই মোবাইল ফোন বা টিভির স্ক্রিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর মনোযোগ ও সামাজিক শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা উচিত এবং বড়দের ক্ষেত্রেও এটি সীমিত রাখা প্রয়োজন। এর বদলে বই পড়ে শোনানো, গল্প বলা বা একসঙ্গে খেলার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। ৫. মানসিক নিরাপত্তা ও ভালোবাসা শিশু যখন নিজেকে নিরাপদ ও ভালোবাসায় ঘেরা মনে করে, তখন তার মস্তিষ্ক শেখার জন্য সবচেয়ে প্রস্তুত থাকে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত বকাঝকা, ভয় বা চাপের পরিবেশ শিশুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুকে সময় দেওয়া, তাকে তাকে জড়িয়ে ধরা এবং তার আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ৬. নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করুন নতুন পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে। পার্কে ঘুরতে যাওয়া, বিভিন্ন রঙ বা আকৃতির খেলনা দেখানো, নতুন শব্দ বা সুর শোনানো - এসব ছোট অভিজ্ঞতাও মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে শিশুর কৌতূহল বাড়ে এবং শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কোনো একদিনে হয় না; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মা–বাবার স্নেহ, সময় এবং সচেতনতা এই বিকাশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই শিশুর সুস্থ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ইউনিসেফ এএমপি/এমএস

Share this post: