TheBangladeshTime

জ্বালানি তেল সংকটে অনেক পাম্প বন্ধ, ভোগান্তি

2026-03-09 - 03:24

ময়মনসিংহের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। পাম্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। যদিও জ্বালানি নিতে আসা যানবাহনের চালকদের ভাষ্য, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিক্রি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো পাম্পের সামনে রশি টানিয়ে জানান দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি নেই। আবার কোনো কোনো পাম্পের সামনে লোহার গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জ্বালানি নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর পুলিশ লাইনসের ঠিক সামনে অবস্থিত মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশন। রাত ৮টার দিকে এ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্প বন্ধ। সামনের অংশজুড়ে লোহার গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক মোটরসাইকেল চালক পাম্পের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও পাম্প বন্ধ রাখায় একে একে অন্য পাম্পে তেলের খোঁজে চলে যাচ্ছেন তারা। একই অবস্থা নগরীর টাউন হল সড়কে তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামের বিপরীতে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনে। এ পাম্পের সামনের অংশেও লোহার গেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জ্বালানির আশায় এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শহরতলীর চায়নামোড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন। এ পেট্রোল পাম্পের সামনে রশি টানিয়ে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা এসে এ পাম্প থেকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কথা হয় পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে অকটেন নিতে আসা ফাহাদ আহমেদ নামের একজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাসা সদর উপজেলার সাহেব কাচারি এলাকায়। দুপুরে হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে নিয়ম মেনে ২ লিটার অকটেন চেয়েছি। কিন্তু কর্মচারী ২০০ টাকার বেশি দিতে রাজি নন। এসময় বাধ্য হয়ে ২০০ টাকার অকটেন নিয়ে শহরের কয়েক এলাকায় ব্যক্তিগত কাজ করে তেল প্রায় শেষ পর্যায়ে। গাড়ি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাতে সাইফুল ফিলিং স্টেশনসহ আরও কয়েকটি পাম্পে গিয়েও তেল পাইনি। পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। আগের কিছু তেল ট্যাঙ্কিতে থাকায় এখনো গাড়ি বন্ধ হয়নি। বাড়ি ফেরার পথে সড়কে চলন্ত অবস্থায় বন্ধ হয়ে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। শিহাব উদ্দিন পাঠান নামের আরেকজন বলেন, আমার মনে হয়- পাম্পে জ্বালানি রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পাম্প মালিক ইচ্ছে করে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। দাম বেড়ে গেলে আগের দামে কেনা জ্বালানি বেশি দামে বিক্রি করে পকেট ভারি করার পায়তারা করছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাম্পে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশনের সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন পাম্পের একজন নিরাপত্তা প্রহরী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানি আছে কি না; আমার জানা নেই। তবে মালিকপক্ষ পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাম্প ঠিকভাবে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. কালাম বলেন, পাম্পে জ্বালানি শেষ। তাই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, জ্বালানি যতক্ষণ থাকবে- পাম্পগুলোর মালিকদের ততক্ষণ জ্বালানি বিক্রি করতে হবে। মজুত করে দাম বাড়ানোর পায়তারা করা যাবে না। জ্বালানি শেষ হওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, নাকি জ্বালানি থাকার পরও অন্য উদ্দেশ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে- তা জানতে পাম্পগুলোতে খোঁজখবর দেওয়া হবে। কামরুজ্জামান মিন্টু/আরএইচ/জেআইএম

Share this post: