TheBangladeshTime

শিরোপা দ্রাবিড়-লক্ষ্মণকে উৎসর্গ করলেন গম্ভীর

2026-03-09 - 05:34

ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আর ব্যক্তিগত মাইলফলক উদ্‌যাপনের সময় নয়; বরং দলের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ট্রফি জয়। তার মতে, দলীয় খেলায় সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শিরোপা জেতা, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নয়। বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে অনেকদিন ধরে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত এই সংস্কৃতি বদলাতে চান। গম্ভীর বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে অনেকদিন ধরে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আমি আশা করি, আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন আমরা এসব নিয়ে কথা বলব না। আপনারা দেখেছেন শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন কী করেছে- ৯৭*, ৮৯ এবং ৮৯। যদি সে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভাবত, তাহলে হয়তো আমরা ২৫০ রান করতে পারতাম না। তাই আমি গণমাধ্যমকেও বলব, মাইলফলক নয়, ট্রফি উদ্‌যাপন করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত রান করা কখনোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, এখনও নয়। দলের সাফল্যই সবচেয়ে বড় বিষয়। সৌভাগ্যবশত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও এই বিষয়ে আমার সঙ্গে একই মত পোষণ করে।’ সেমিফাইনাল ও ফাইনাল- দুই ম্যাচেই সাঞ্জু স্যামসনের শতকের কাছাকাছি পৌঁছেও বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। দুই ক্ষেত্রেই তিনি সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে ছিলেন। তবে সেই আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ ২৫০ ছাড়িয়েছে। গম্ভীরের মতে, একজন ব্যাটার যখন ৯০-এর ঘরে থাকে, তখন সে যদি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির কথা না ভেবে দলের জন্য বড় শট খেলতে পারে- তখনই বড় স্কোর সম্ভব হয়। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ৯৪ রানে ব্যাট করে, তখন তার সাহস থাকা উচিত পরের বলেই সেঞ্চুরির জন্য খেলতে, তিন-চার বল ধরে অপেক্ষা করার পরিবর্তে। আমার মনে হয় আমাদের খেলোয়াড়রা দারুণভাবে সেটাই করেছে। ড্রেসিংরুমের সবাই এই মানসিকতা গ্রহণ করেছে। নিজের আগে দলকে রাখার কারণেই আমরা এমন সাফল্য পেয়েছি।’ এই বিশ্বকাপ জয় তিন সাবেক সতীর্থকে উৎসর্গ করেছেন গম্ভীর। তারা হলেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং অজিত আগারকার। গম্ভীর বলেন, ‘আমি এই ট্রফিটি রাহুল ভাইকে উৎসর্গ করতে চাই। ভারতীয় ক্রিকেটকে এত ভালো অবস্থায় রাখার জন্য তার অবদান অসাধারণ। তার মেয়াদে তিনি যে কাজ করেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্মণও পর্দার আড়ালে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ কাজ করে চলেছেন। ক্রিকেট বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রই এখন নতুন প্রতিভা তৈরির মূল জায়গা। আর আজিত আগরকারও অনেক সমালোচনার মুখে পড়েন, কিন্তু তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’ গম্ভীরের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দলের ভেতরে থাকা প্রতিভার গভীরতা। এই কারণেই বিভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও সমন্বয় ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে দলে ছিলেন রিঙ্কু সিং, আর সাঞ্জু স্যামসনের জায়গা ছিল না। পরে দলগত সমন্বয় পরিবর্তন করে স্যামসনকে ওপেনার হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সেটিই হয়ে ওঠে ভারতের সফল কৌশল। শেষ পর্যন্ত তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হন। গম্ভীর বলেন, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে এত প্রতিভা আছে যে আমরা তিন-চার ধরনের সমন্বয়ে দল সাজাতে পারতাম। দুইজন স্পিনার খেলাতে পারতাম, আবার আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটারও রাখতে পারতাম। ওপেনিংয়েও আমাদের একাধিক বিকল্প ছিল।’ গম্ভীরের লক্ষ্য শুধু একটি সফল দল গড়ে তোলা নয়, বরং একটি আলাদা ধরনের ক্রিকেট উপহার দেওয়া। তিনি বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে আমি সবসময় চাই এমন একটি দল গড়তে, যারা ভিন্ন ধরণের ক্রিকেট খেলবে। এমন একটি দল, যারা নিয়মিত বেশি রান করবে, ভালো বোলিং করবে এবং ভয় না পেয়ে খেলবে। হারের ভয় নয়, জয়ের বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে।’ আইএইচএস/

Share this post: