যাত্রীর চাপ কমেছে কমলাপুরে
2026-03-20 - 02:00
গত সোমবার রাত থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। প্রতিটি প্লাটফর্মে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে যেমন যাত্রী ছিল, তেমনি অনেককে ট্রেনের ছাদেও যাত্রা করতে দেখা গেছে। তবে সেই পরিস্থিতি আজ শুক্রবার আর নেই। যাত্রীর চাপ কমেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে প্রতিটি ট্রেন নির্বিঘ্নেই চলাচল করতে দেখা গেছে। গত চারদিনে যে পরিমাণ যাত্রীর চাপ ছিল, তার তুলনায় আজ অনেকটাই কম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে স্টেশনে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় এবং নির্ধারিত সময়ের বিলম্বের কারণে এদিন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত ২৯ রমজানকে কেন্দ্র করেই যাত্রীরা টিকিট কেটে থাকেন। কারণ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর কখনো ২৯ রোজা পূর্ণ হওয়ার পর আবার কখনো ৩০ রোজা শেষে অনুষ্ঠিত হয়। তাই অনেকে আগে থেকেই ২৯ রমজানকে ধরে যাত্রার পরিকল্পনা করেন। এ সময়ে বেশিরভাগ বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। এরপর যাত্রীর চাপ কিছুটা কমে আসে। শুক্রবার সকাল থেকেই স্টেশনে তুলনামূলক স্বস্তির পরিবেশ দেখা গেছে। যদিও যাত্রীর চাপ কম ছিল, তবু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল পর্যাপ্ত। যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করে ধাপে ধাপে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। খুলনায় যাওয়ার জন্য সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না। তবে যেহেতু রোজা ৩০টি পূর্ণ হচ্ছে, তাই শেষ মুহূর্তে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ট্রেনে আসনও খালি রয়েছে, ভোগান্তিও কম হবে মনে হচ্ছে।’ একই কথা বলেন আরেক যাত্রী রিপন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত চাঁদরাতে ঝিনাইদহের গ্রামের বাড়িতে যাই। কিন্তু গতরাতে চাঁদ দেখা যায়নি, তাই আজ সকালে ট্রেনে কোটচাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ট্রেনে এসে ভালো লাগছে আসন খালি আছে, যাত্রীর চাপও কম।’ জামালপুরগামী যাত্রী আহসান হাবিব বলেন, ‘এবার যানজট আর অফিসের চাপের কারণে গ্রামে যাবো না ভেবেছিলাম। তবে যেহেতু রোজা ৩০টি হচ্ছে এবং আজ ট্রেন চলাচল করছে, তাই ইন্টারনেটে দেখে আসলাম যে অনেক ট্রেনেই আসন ফাঁকা রয়েছে। পরে পরিবার নিয়ে গ্রামে ঘুরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ ইএআর/বিএ