পাইকারি বাজারে ২৫০ টাকার তরমুজ মিলছে ১০০ টাকায়
2026-03-26 - 05:51
পাহাড় ও হ্রদবেষ্টিত জেলা রাঙ্গামাটির ভাসমান হাট ‘সমতাঘাটে’মৌসুমী ফল তরমুজে ভরপুর। তবে চাহিদা না থাকায় ধস নেমেছে দামে। এতে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে কৃষকরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও লোকসানের কথা জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৫ মার্চ) সরেজমিনে শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাট ঘুরে দেখা যায়, হ্রদের বুকে তরমুজ বোঝাই নৌকার ভিড়। তবে রমজানে যে তরমুজ আকারভেদে প্রতি পিছ ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা মাত্র ৪০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কিছুটা হতাশ হলেও বাজারের ধরন যে এমনই তা একরকম মেনেই নিয়েছেন কৃষক। তবে তেল সংকটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তরমুজের বাজারে। এমনটাই বলছেন মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় সাত হাজার ২০০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পাইকারি ক্রেতা আব্দুল মজিদ বলেন, তরমুজের দাম একদম পড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ চালান পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করেছি। তাতে দু'বার লোকসান হয়েছে। আজকের বাজারে ছোট তরমুজ ২৫০ পিছ কিনেছি ১০ হাজার টাকায়। এগুলো ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বিক্রি হবে। এরপর পঁচা ও সাদা হলে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। এখন খুচরা বিক্রিতে খুব বেশি লাভ করা যায় না। আবার যদি বৃষ্টি হয় তাহলে একেবারে ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে। জেলার লংগদু উপজেলার কাট্টলী থেকে সমতাঘাটে তরমুজ এনেছেন কৃষক সমর কান্তি চাকমা। এবছর সাতশ থালা তরমুজ চাষ করে এখন পর্যন্ত তিন দফা ফলন বিক্রি করেছেন ১২০০ পিছ। দাম ছিল প্রতিপিছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আজকের বাজারে সাড়ে চারশ পিছ তরমুজ এনে প্রতিপিছের দাম চাইছেন ১৫০ টাকা। কিন্তু ১০০ টাকার বেশি কেউ বলছে না। কৃষক সমর কান্তি বলেন, তরমুজ চাষে পরিশ্রম বেশি হয়। সার, কীটনাশক ও পানি দিতে হয় নিয়মিত। এতে খরচও অনেক বেড়ে যায়। এখন বাজারে তরমুজে ভরপুর। কিন্তু বাইরের কোনো পাইকারি ক্রেতার দেখা নেই। রাঙ্গামাটির তরমুজ আর সর্বোচ্চ ১০ দিন পাওয়া যাবে। পাইকারি বিক্রেতা মো. রাসেল সমতাঘাটে তরমুজ নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, আমি চারশ পিছ তরমুজ নিয়ে মঙ্গলবার থেকে বসে আছি। কৃষক থেকে কিনে বাজারে আনা পর্যন্ত প্রতিপিছ তরমুজের পেছনে খরচ পড়েছে ১৪০ টাকা। এখন পাইকারি ক্রেতারা দাম বলছেন ১০০ টাকা। গতকাল ১২০ টাকা পর্যন্ত বলেছিল। তিনি আরও বলেন, তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাইরের পাইকাররা আসে না। স্থানীয় বাজারেই খুচরা বিক্রি করেন পাইকাররা। ফলে চাহিদা কমে গেছে। আমি বাগানসহ ঠিকা কিনেছিলাম। এভাবে কিনলে রিস্ক বেশি থাকে। এবার প্রথম দিকে কিছুটা লাভ হয়েছিল, এখন পুঁজি নিয়ে টানাটানি অবস্থা। রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটির বাজার তরমুজে ভরে গেছে। চাষিরা আগাম জাতের কিছু তরমুজের চাষ করেছেন। এতে দামও ভালো পেয়েছেন। তবে এখন বাজারে তরমুজ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে গেছে। আরমান খান/এএইচ/এমএস