TheBangladeshTime

ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

2026-03-15 - 08:54

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন চালকদের অভিযোগ, ভৈরব হাইওয়ে থানার কিছু পুলিশ সদস্য দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহন ও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছে। বিশেষ করে প্রতিদিন চলাচল করা কয়েকশ’ সিএনজি চালক নিরাপদে গাড়ি চালাতে বাধ্য হয়ে এই চাঁদা দিতে হচ্ছে। জানা গেছে, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ’ সিএনজি চলাচল করে থাকে। এসব অধিকাংশ সিএনজি কাগজপত্র সঠিক নেই। একারণেই সিএনজির চালকরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে দালালের মাধ্যমে মাসোহারা চুক্তি করে থাকে। সিএনজি চালকদের অভিযোগ, প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেলাব থানা এলাকার মাহমুদাবাদ নামক স্থানে ও ভৈরবের নাটাল মোড়ে প্রতিদিন চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশির নামে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হয়রানি করা হয়। এছাড়া গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না থাকলে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। যারা টাকা দিতে পারে না তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এদিকে সড়কে অবাধে বসছে হকারদের দোকান। এসব দোকানের কারণে সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, হকাররা হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই দোকান চালায়। এছাড়া ভৈরব বাসস্ট্যান্ড হতে আশুগঞ্জে রেজিস্ট্রেশনবিহীন শত শত মটরসাইকেল যাত্রী পরিবহন করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। সড়কে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামে অধিকাংশ গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করে বলে একাধিক অভিযোগ আছে। এতে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। হাইওয়ে পুলিশ এভাবে চাঁদা তুললেও দেখার কেউ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, গাড়ির কাগজপত্র বৈধ-অবৈধ যাই হোক সড়কে নিরাপদে গাড়ি চালাতে আমি মাসিক ৫০০ টাকা হাইওয়ের পুলিশকে দিয়ে থাকি। তবে টাকাটা দালালের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এমনভাবে একাধিক সিএনজিচালক চাঁদার টাকা দিয়ে থাকে। আবদুর রশিদ নামের আরেক সিএনজি চালক বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সিএনজি চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালাই। গাড়ির কাগজপত্র অনেক সময় ঠিক থাকে না, তাই পুলিশকে টাকা দিতে হয়। আবার কাগজ ঠিক থাকলেও অনেকে চাঁদা দেয়। কারণ পুলিশ যেকোনো কারণে চালকদের হয়রানি করতে পারে। এদিকে ভৈরব- কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা-সিলেট সড়কে প্রতিদিন কয়েকজন যুবককে স্লিপ দিয়ে সিএনজি, অটোরিকশা থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায়। তাদেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জানান, পৌরসভার টোলের খাজনার টাকা আদায় করেন তারা। জানা গেছে, পৌরসভার সীমানার বাইরে গিয়ে ঢাকা-সিলেট সড়কের জগনাথপুর ব্রক্ষপুত্র সেতু পর্যন্ত এবং কিশোরগঞ্জ সড়কের উপজেলা পরিষদ অফিস পর্যন্ত পৌর টোল আদায় করে তারা। চালকরা চাঁদার টাকা না দিলে তাদেরকে মারধর বা হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, আমি এক সপ্তাহ আগে থানায় যোগদান করেছি। কাজেই চাঁদা আদায়সহ দুটি চেকপোস্টের বিষয় অবগত নই। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ চাঁদাবাজি করবে আমি বিশ্বাস করি না। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কোনো দালাল বা অন্য কোনো অসৎ ব্যক্তি চাঁদা আদায় করতে পারেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি চাঁদা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার পুলিশ যদি এতে জড়িত থাকে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। রাজীবুল হাসান/এনএইচআর/জেআইএম

Share this post: