মধ্যপ্রাচ্যে তেল বাণিজ্যের চেয়েও ভয়ংকর হবে পানি সংকট
2026-03-05 - 15:04
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা তো বটেই, তার চেয়েও বড় এক অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়বে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো। বর্তমানে যে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে তেল নয়, আসল সংকট হচ্ছে ‘পানি’। ‘আপনি তেল পান করতে পারবেন না’, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য প্রবাদটি এখন নিষ্ঠুরভাবে সত্য। এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের সুপেয় পানির জন্য প্রায় ৪০০টি কৃত্রিম লবণাক্ততা দূরীকরণ প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি তেলের পর এই ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে পুরো সমাজব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে পড়বে। এই অঞ্চলের দেশগুলো সুপেয় পানির জন্য ডিস্যালাইনেশ প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক। কুয়েত ৯০ শতাংশ ওমান ৮৬ শতাংশ সৌদি আরব ৭০ শতাংশ (রিয়াদ শহরের জন্য ৯৫ শতাংশের বেশি), সংযুক্ত আরব আমিরাত৪২ শতাংশ। একটি ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পানির মূল উৎস হলো জুবাইল প্ল্যান্ট। যদি কোনোভাবে (শারীরিক হামলা বা সাইবার অ্যাটাক) এই প্ল্যান্টটি অচল হয়ে যায়, তবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদ শহর খালি করে দিতে হবে। পানির এই অভাব কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং বর্তমান সৌদি সরকারের কাঠামোকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে পানি নিয়ে সংঘাতের উদ্বেগজনক হারপ্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের ওয়াটার কনফ্লিক্ট ক্রনোলজি-র সর্বশেষ (নভেম্বর ২০২৫) রিপোর্ট অনুযায়ী, পানি নিয়ে সহিংসতার ঘটনা এক বছরে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে পানি নিয়ে মাত্র ২১টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০টিতে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় খরা ও পানির অভাব এই সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান কেএম