TheBangladeshTime

কক্সবাজারে জমছে ঈদ বাজার, নিম্ন আয়ের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস

2026-03-15 - 05:54

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের বাজারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। ফলে রাজধানীর মতো কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে ঈদ বাজার। তবে যেখানে বিত্তশালী ও মধ্যবিত্তদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে উৎসবের প্রস্তুতি, সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আর সীমিত আয়ের চাপে নতুন জামা কেনা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। কক্সবাজার শহরের হকার মার্কেট এলাকায় কেনাকাটা করতে এসেছেন টমটমচালক মুহাম্মদ ইদ্রিস (৫২)। তিনি বলেন, সামর্থ্যবান প্রতিবেশীরা অনেক কিছু কিনছে। সেগুলো দেখে মনে শখ জেগেছে স্ত্রী সন্তানদের। টমটম চালিয়ে গত ২০দিনে যা আয় হয়েছে তার অর্ধেক জমিয়ে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। ভেবেছিলাম ৪ হাজারের মধ্যে মোটামুটি সবার কাপড় হয়ে যাবে। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখি হিসাব উল্টো। অনেক দোকান ঘুরেও সন্তানের পছন্দের পোশাক কিনতে পারিনি। যা পছন্দ হয়, দেড় হাজারের নিচে মিলে না- মানে কোনো কাপড়ই হাজারের নিচে দেয় না দোকানি। মনখারাপ করে মার্কেট থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। কিছু না কিনে বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলায় বাচ্চারা কান্না করছে। বেসরকারি অফিসে সহায়ক হিসেবে কাজ করেন নবী হোসেন। তিনি বলেন, মাস শেষে ৮ হাজার টাকা বেতন দেয়। ঈদ বোনাস দূরে থাক, ফেব্রুয়ারির বেতন এখনো পাইনি। যা বেতন পাই, খাবারটা ঠিকমতো খেতে কষ্ট হয়। প্রতিবেশী অনেক দরিদ্রজন দামের তারতম্যের কারণে মার্কেটে গিয়ে কিছু না কিনে ফিরে এসেছে শুনে হতাশ হয়েছি। তাই ঈদ বাজার নিয়ে ভাবছি না। তবে বাচ্চাদের মন তো আর অভাব কী জিনিস বুঝে না। আমাদের মতো হতদরিদ্ররা চরম চাপে আছি। প্রায় একই অবস্থা উপজেলা ও গ্রামে। ঈদগাঁও বাজারে বাচ্চাদের ঈদ মার্কেট করতে আসা শ্রমজীবী বোরহান ইয়াছিন বলেন, ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কর্মহীন-সংসার চালাতে ধারদেনায় জর্জরিত হচ্ছি। এর মাঝে নতুন পোশাকের জন্য বাচ্চাদের আবদার। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতেও পারি না আবার অধিক মূল্যের কারণে জামাও নিতে পারছি না। ফলে প্রতিদিন রাত করে বাড়ি ফিরছি। এদিকে এবার লবণ চাষিদের পরিবারে ঈদের আমেজ নেই বলেেউল্লেখ করেছেন ঈদগাঁওর গোমাতলী এলাকার লবণচাষী রিদুয়ানুল হক। তিনি বলেন, গতবছরের মতো চলতি মৌসুমেও লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষিরা। মণ প্রতি প্রায় সাড়ে ৩শ’ টাকা খরচের লবণের বাজার মূল্য মিলছে ২০০ টাকা। এতে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা। গতবছরও একই দশা গেছে। এবার নির্বাচিত সরকার এলেও এখনো ন্যায্যমূল্য না মেলায় লবণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্ধলক্ষাধিক পরিবারে এবারও ঈদ আনন্দ থাকবে না। যেসব পরিবার সন্তানদের ঈদে অন্তত দুই সেট কাপড় কিনে দিতেন তারা এবার একটি সেট কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে কক্সবাজারের বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দুপুর গড়াতেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। জেলা ও উপজেলা সদরের মার্কেটগুলো সেহরির সময় পর্যন্ত খোলা থাকছে। পানবাজার সড়কের ফিরোজা মার্কেট, সালাম মার্কেট, নিউমার্কেট, সুপার মার্কেট, ফজল মার্কেট, হকার্স মার্কেট, ঝাউতলায় টপটেন, আড়ং, জেন্টেলপার্কসহ চোখ ধাঁধানো শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। বিশেষ করে নারী-শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে সমাগম বেশী ক্রেতাদের। আর বিভিন্ন ফুটপাতে স্বল্প দামের পোশাক ও জুতার খোঁজে অনেকেই ভিড় করছেন। হকার্স মার্কেটের দোকানি শাহীন আলম বলেন, শিশু ও যুবকদের পোশাকের চাহিদা বেশি। অনেক পরিবার একসঙ্গে এসে সবার জন্য পোশাক কিনছেন। তবে উৎসবময় পরিবেশেও স্বল্প আয়ের মানুষের মুখে হতাশা স্পষ্ট। পছন্দের পোশাক দেখলেও দাম বেশি হওয়ায় শেষে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। আব্বাজান পাঞ্জাবি হাউসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সবার আয়ত্তে রেখে দাম নির্ধারণ করার চেষ্টা করি আমরা। গতবার দাম বাড়তি হয়ে অভিযোগ উঠার পর এবার বাড়তি নজরদারি রেখে দাম ঠিক করে দেওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, ঈদের কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ছে। বিশেষ করে বিকেল ও রাতে বেশি লোকসমাগম হয়। চাঁদ রাত পর্যন্ত এমন অবস্থা চলমান থাকবে আশা করা যায়। চুরি ও ছিনতাই ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মার্কেটগুলো নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়েছে। জেলা ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করে জনদুর্ভোগ কমাতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক কর্মী মাঠে দায়িত্বপালন করছেন। দূরপাল্লার বাস শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে ঈদ বাজার নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। জেলা শহরসহ উপজেলার মার্কেটগুলোও সমান গুরুত্বে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সায়ীদ আলমগীর/এনএইচআর/জেআইএম

Share this post: