TheBangladeshTime

সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন ভঙ্গ, লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ১২১

2026-03-15 - 05:04

লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ১২১ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আটকদের বর্তমানে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার ‘অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি’ (এআইএমএ) দুই দফায় এই অভিযান পরিচালনা করে। গত ৮ মার্চ আল-বাইদা শহর থেকে ১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ১২ মার্চ সির্তে শহর থেকে আরও ১০৫ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়। এই দলে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিক থাকলেও পৃথকভাবে সংখ্যা জানানো হয়নি। আটকদের বেনগাজি গ্রেটার এবং গনফুদা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান মেজর জেনারেল সালাহ আল-খাফিফি এক নিরাপত্তা বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত লিবিয়া বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রগুলো। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জীবনের আশায় আসা অভিবাসীরা এখানে এসে প্রায়ই পাচারকারীদের হাতে বন্দি হন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। জাতিসংঘ প্রধান সম্প্রতি রাজনৈতিক স্বার্থে অভিবাসীদের অমানবিকীকরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার নেশায় লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন হাজারো মানুষ। এমআরএম/জেআইএম

Share this post: