TheBangladeshTime

পশ্চিমবঙ্গে গ্যাস সংকটে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলছে মানুষ, ব্যবসাতেও ধস

2026-03-20 - 13:50

একদিকে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে প্রতি সিলিন্ডারে অন্তত ৬০ রুপি দাম বৃদ্ধি—এই দুইয়ের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনে। এর প্রভাবে অনেকেই খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলছেন, হোটেল-রেস্তোরাঁতেও কমে গেছে রান্নার পদ। এই সংকট থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা জানেন না কেউ। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার পদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অনেকেই ফলমূল ও বাজার থেকে কেনা প্রস্তুত খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করছেন, যাতে বাসায় কম রান্না করতে হয়। তাদের মতে, গ্যাস সাশ্রয়ের জন্যই তারা এই পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার একটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক আব্দুল ওদুদ জাগোনিউজকে বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার আছে ঠিকই, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—যেখানে আগে তিন বা চারটি পদ রান্না হতো, সেখানে এখন দুটি পদ রান্না করা হবে। ছোটোখাটো জিনিসের জন্য গ্যাস ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বারবার গ্যাস জ্বালাতে হয় বলে চা খাওয়াও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ বিলকিস পারভীন নামে কলকাতার এক উদ্যোক্তা জানান, ‘সন্ধ্যায় ইফতারের জন্য আমরা বেশিরভাগ সময় ফলের ওপরই নির্ভর করি। ভাজাপোড়া ও অন্যান্য খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। এই রমজানে রাতের খাবারকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’ রমজান মাসে ইফতারের জন্য মুসলিম পরিবারগুলোতে ভাজাপোড়া খাবারের কদর বহুদিনের। তবে এবার গ্যাস সংকটের কারণে বেশিরভাগ পরিবার ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে ইফতারে ভাত, রুটি বা ফলমূলকে প্রাধান্য দিচ্ছে অথবা বাইরে থেকে কিনে আনছে। বেকবাগানের আহমেদ পরিবার জানায়, গত বছর রমজানে তারা বাড়িতে বিভিন্ন খাবার তৈরি করলেও এবার গ্যাস সংকট তাদের বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য করেছে। পরিবারের সদস্য ইউসরা আহমেদ বলেন, ‘এই রমজানে আমরা বাড়িতে হালিম, দইবড়া, সিঙ্গারা ও ভাজা জাতীয় খাবার তৈরি করছি না। বরং সেগুলো কিনে নিচ্ছি, যাতে ঘরে রাতের খাবার ও সেহরি তৈরির জন্য গ্যাস ব্যবহার করা যায়।’ কলকাতার সিআইটি রোডের বাসিন্দা সাবা খান বলেন, ‘আমার দুটি এলপিজি সিলিন্ডার থাকলেও একটি শেষ হয়ে গেছে। এখনো সেটি বুক করতে পারিনি। তাই বর্তমান সিলিন্ডারটি খুব সতর্কভাবে ব্যবহার করছি। গ্যাস বাঁচাতে আমরা এখন ইন্ডাকশন ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ বেশি ব্যবহার করছি।’ কলকাতা শহরের ফুড মার্কেট ও ছোট খাবারের দোকানগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। রমজান মাসে যেখানে ব্যবসা জমজমাট থাকে, সেখানে এবার ধস নেমেছে। অনেক দোকান মালিক খাবারের পদ কমিয়ে দিয়েছেন। জাকারিয়া স্ট্রিটের এক দোকান মালিক সামিউল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়েছি। কিছু জ্বালানি মজুত থাকলেও তা বেশিদিন চলবে না।’ ডিডি/কেএএ/

Share this post: