ছোট্ট হৃদার আকুতি ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন, বাবার জন্য খুব পরাণ পোড়ছে’
2026-03-04 - 15:44
অপহৃত স্বামীর সন্ধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদছিলেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। তখন মাইক্রোফোনের সামনে বসে আধো আধো বোলে ছোট্ট শিশু হৃদা বলছিল, ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা আমাকে অনেক আদর করে। আমি শুধু বাবাকে ফিরে পেতে চাই। আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমার বাবার জন্য আমার খুব পরাণ পোড়ছে। বাবাকে ছাড়া একটুও ভাল্লাগে না আমার। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।’ অপহরণের শিকার বাবাকে ফিরে পেতে ছোট্ট শিশুর এই আকুতিতে রেশমা খাতুন ও তার বড় দুই মেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একটি পরিবারের এই কান্নায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে। অপহৃত স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের (৪৮) সন্ধান দাবিতে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। জাহাঙ্গীর আলম যশোর শহরের শংকরপুরে ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ‘আর আর মেডিকেল’ নামে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করেন। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরতলি সুজলপুর এলাকাতে বসবাস করেন তিনি। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাদা প্রাইভেটকারে জাহাঙ্গীরকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার ফোন দিয়ে পরিবারের কাছে চাওয়া হয় এক কোটি টাকার মুক্তিপণ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখনো জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করতে পারেনি। আরও পড়ুন: ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে জাহাঙ্গীরকে জীবিত উদ্ধার ও অপহরণকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। অপহরণের তিন দিন পার হলেও ফিরে না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার রাতে জাহাঙ্গীর আলম দোকান বন্ধ করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে করে খোলাডাঙ্গা কদমতলার বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন এসে গতিরোধ এবং তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যবহৃত ফোন নম্বর থেকে রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নইলে তাকে হত্যা করা হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে মোবাইলফোনটি বন্ধ রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, সাত বছর ধরে শংকরপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন তার স্বামী। রাতে তারাবি পড়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন প্রতিদিন। তবে সোমবার আর ফেরেননি। তিনি না ফেরায় তিন সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এমন অবস্থায় সেও তার বাবাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিন দিন পার হয়ে গেছে, স্বামীর সন্ধান পাচ্ছি না। আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার স্বামীকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার ও অপহরণকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাই।’ এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে। ব্যবসা, না পূর্বে কোনো শত্রুতার জেরে এটি ঘটেছে বা এর পেছনের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি-না, সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, দ্রুত উদ্ধার করতে পারবো। মিলন রহমান/এসআর/এএসএম